সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই সদ্য শেষ হয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। এরই মধ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল। দলীয় কর্মীদের স্ট্রংরুমের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে ভিতরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। রাতেই ভয়াবহ বৃষ্টির মধ্যে ছুটে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন যে, সিল করা স্ট্রংরুমের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাইরের লোক প্রবেশ করছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, সিলড স্ট্রংরুমের ভিতরে অজানা ব্যক্তিদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি করার চেষ্টা চলছে।
এবারের বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘সাড়ে তিনটে পর্যন্ত স্ট্রংরুমে সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকাই মেল পাঠিয়ে জানানো হয় বিকেল চারটের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছো? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে দৌড়ে আসি। এখন আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। নিমন্ত্রণ করছেন বিজেপিকে।’ পাল্টা, শশী পাঁজাও বলেন, ‘স্ট্রংরুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা খুললে অবশ্যই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে জানাতে হবে। কেন জানানো হল না?’
তৃণমূলের দুই প্রার্থীর অভিযোগ, “লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দেখা যাচ্ছে ভিতরে কাজ হচ্ছে। হাতে হাতে ব্যালট ঘুরছে ভিতরে। অথচ সিইও বলছেন, ভিতরে কিছু হচ্ছে না। যদি পোস্টাল ব্যালটের কাজই হয়। তবে সেগুলি কোথা থেকে এল?” কুণালের প্রশ্ন, “আমাদের ই-মেল করা হলে কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না?” শশী পাঁজাও বলেন, “স্ট্রংরুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা খুললে অবশ্যই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে জানাতে হবে। কেন জানানো হল না?”
এই ঘটনার ঠিক কয়েকঘণ্টা আগেই কর্মী ও রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রংরুম থেকে ভোটগণনা কেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় কোনও কারচুপি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন মমতা। সেই আশঙ্কা প্রকাশের পরই কমিশনের বিরুদ্ধে স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের সামনে প্রতিবাদে সরব কুণাল ও শশীরা।
কী অভিযোগ তৃণমূলের?
‘এক্স’-এ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে লেখা হয়েছে, ‘বাংলার গণতন্ত্র কি আজ বিপন্ন? নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর আসছে। অভিযোগ উঠছে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলার বেআইনি চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ। মানুষের রায় কি তবে অন্ধকারে বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে?’
তাতে আরও লেখা হয়েছে, ‘এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং জনগণের ভোট পাহারা দিতে স্টেডিয়ামের বাইরে ধরনায় বসেছেন ডঃ শশী পাঁজা এবং শ্রী কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে সরাসরি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পথে রওনা দিয়েছেন মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষের পবিত্র রায়কে নিয়ে কোনো ছিনিমিনি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি ভোট পাহারা দেওয়া হবে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির এই অশুভ আঁতাত আমরা ভেস্তে দেবই! সজাগ থাকুন, সতর্ক থাকুন। গণতন্ত্র লুঠ হতে দেবেন না!’

ইতিমধ্যে, গণনাকেন্দ্রে বেআইনি বা অবৈধ প্রবেশ রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হল। গণনাকেন্দ্রে যাঁদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, তাঁদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) থাকে। এবার সেই পরিচয়পত্রের সঙ্গে থাকবে কিউআর কোড। ওই কোড স্ক্যান করেই যাচাই করা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া অনুমতিপত্র।