সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বড় স্বস্তি পেলেন সারদা মামলার দুই মূল অভিযুক্ত। তিনটি মামলায় বেকসুর খালাস হলেন সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়।
২০১৩ সালে চিটফান্ড মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়। ২০২৫-এ সেই সারদা সংক্রান্ত মামলায় প্রথম রায়দান হল। ১১ নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিধিশ্রী দুজনকেই বেকসুর খালাস করেন। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় ২০১৩ সালে রাজ্য সরকার মামলা করে। তিন আমানতকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে হয় মামলা হয়। সেই মামলাতেই স্বস্তি পেলেন দুজন।
সারদা কেলেঙ্কারির তিনটি মামলা থেকে ১২ বছর পর বেকসুর খালাস হলেন সুদীপ্ত সেন। সারদা মামলায় রাজ্য সরকারের তরফে তদন্ত হওয়া কলকাতা পুলিসের প্রথম তিনটে হেস্টিংস থানার মামলায় বেকসুর খালাস দেওয়া হল সুদীপ্ত সেন ও দেবযানীকে। ৫০ জন সাক্ষ থাকলেও ১৫ জন মাত্র সাক্ষ দেয়। তাদের সাক্ষে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। রাজ্যের আইনজীবীদের তরফে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার আদালত জানায়, এই মামলায় কলকাতা পুলিস প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। সারদা সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলা কলকাতা পুলিসের হাতে আছে বলে খবর। এ দিন রায় ঘোষণার পরে হাসতে দেখা যায় সুদীপ্ত ও দেবযানীকে। কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় ২০১৩ সালে রাজ্য সরকার মামলা করে। তিন আমানতকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে হয় মামলা হয়। সেই মামলাতেই স্বস্তি পেলেন দুজন।
সুদীপ্ত-দেবযানীর বিরুদ্ধে মোট ২৫০টি মামলা রয়েছে রাজ্যের করা। এর মধ্যে ২১৪টি মামলায় জামিন পেয়েছেন তাঁরা। বাকি মামলায় জামিন পাননি। ফলে এদিন বেকসুর খালাস হওয়ার পরও দুজনকেই জেলে থাকতে হবে। প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন সুদীপ্ত। এ রাজ্যে সারদা মামলার তদন্ত করছে ইডি ও সিবিআই। সারদা মামলায় যখন বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই, তখন নিজের দোষী স্বীকার করে নিয়েছেন সুদীপ্ত। আদালতে তিনি জানিয়েছেন, সারদা কোম্পানীর কর্মীদের বেতন ও পিএফের টাকা জমা দিতে পারেননি।
দেবযানীর মা শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, “সত্যের জয় কিছুটা হলেও হয়েছে। সময় লাগছে। এই মামলায় সময় লাগার কথা নয়, তা-ও লাগছে। মেনে নিয়েছি। আজ প্রথম কোনও মামলায় খালাস হল। এটির প্রেক্ষিতেই হয়ত অন্য মামলাতেও খালাস হবে। সময়কে মেনে নিতে হয়েছে। সময়ে বিচার পাইনি। বিচারে দেরি হচ্ছে। কারণ আমি কোনওদিনই বলব না। আমার মেয়ে কোনওদিনই মুখ খুলবে না। ১৩ বছর হয়ে গিয়েছে, এখনও খুলবে না। কিছু বলতে চাই না, বলব না।”
প্রসঙ্গত, সারদার কেলেঙ্কারিতে রাজ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, সারদা গ্রুপ নামে একটি কোম্পানি খুলে সাধারণ মানুষের কাছে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে প্রতারণা করা হয়েছিল। এই সারদা কোম্পানির কর্তা ছিলেন সুদীপ্ত সেন।

২০১৩-তে সারদা কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গাড়ির চালক। পরে জেরায় জানা যায়, চালককে রাঁচিতে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে রাঁচি হয়ে গাড়ি করে সড়কপথে হরিদ্বার, দেরাদুন, পাঞ্জাব হয়ে কাশ্মীরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেনরা। পরে দেবযানীর মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তৎকালীন তদন্তকারী আধিকারিকরা কাশ্মীরের কথা জানতে পারেন। কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে সুদীপ্ত সেন-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।