ব্রেকিং
  • Home /
  • ভারত /
  • Arvind Kejriwal Aquitted : দিল্লি আবগারি মামলায় বেকসুর খালাস অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া, সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

Arvind Kejriwal Aquitted : দিল্লি আবগারি মামলায় বেকসুর খালাস অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া, সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী Manish Sisodia-সহ মোট ২৩ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে—তদন্তের ন্যূনতম মানদণ্ড....

Arvind Kejriwal Aquitted : দিল্লি আবগারি মামলায় বেকসুর খালাস অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া, সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

  • Home /
  • ভারত /
  • Arvind Kejriwal Aquitted : দিল্লি আবগারি মামলায় বেকসুর খালাস অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মনীশ সিসোদিয়া, সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় নাটকীয় মোড়। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী Manish Sisodia-সহ মোট ২৩ জনকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে—তদন্তের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থা। অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হলে কীভাবে তা বিচারপর্বে এল, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিবিআই আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: প্রমাণের ঘাটতি, চার্জশিটে ফাঁকফোকর
রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক স্পষ্ট ভাষায় জানান, চার্জশিটে একাধিক ত্রুটি ও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করা যায়নি। ষড়যন্ত্রের যে তত্ত্ব সামনে আনা হয়েছিল, তা নথিপত্রে টেকসই নয়। আদালতের ভাষায়, “গুরুতর অভিযোগ অবশ্যই বস্তুগত প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।”

এমনকি মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত কুলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাব ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত সতর্ক করেছে—উচ্চপদস্থ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রামাণ্য প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ আনা হলে তদন্তকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

 

কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেজরিওয়াল
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশ। Arvind Kejriwal চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “সত্যমেব জয়তে। আমি কট্টর ইমানদার।” কথা বলতে গিয়ে থেমে যান, চশমা খুলে চোখ ঢাকেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা Manish Sisodia তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। দুই পুরনো সহযোদ্ধার সেই মুহূর্ত যেন রাজনৈতিক লড়াইয়ের দীর্ঘ অধ্যায়ের প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র উদ্দেশে কেজরিওয়ালের বার্তা ছিল স্পষ্ট—ক্ষমতার জন্য নির্বাচিত সরকার ভাঙার চেষ্টা না করে জনগণের সেবা করা উচিত। তাঁর দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চক্রান্ত।
১৫৬ দিনের হাজতবাস, তবু পদত্যাগ নয়
২০২৪ সালের জুনে আবগারি মামলায় সিবিআই গ্রেপ্তার করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে। পরে ইডিও পদক্ষেপ নেয়। ১৫৬ দিন জেল খেটেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাজতবাসের সময়ও মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়েননি—এমন নজির দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
এই সময়ে বিজেপি তীব্র প্রচার চালিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক মেরুকরণ জোরদার করে। আম আদমি পার্টির পাঁচ শীর্ষ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, উদ্দেশ্য ছিল দলকে দুর্বল করা এবং জনমানসে কলঙ্ক ছড়ানো।
রাজনৈতিক অভিঘাত: তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
এই রায়ের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিরোধী দলগুলির দীর্ঘদিনের অভিযোগ—সিবিআই ও ইডিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়; এটি ক্ষমতা ও তদন্তের সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার দরজা খুলে দিল। বিশেষত যখন আদালত নিজেই বলছে, অভিযোগের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ হয়নি।

SIR-এ ১.২০ কোটি নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

জনমানসে প্রভাব ও আগামীর সমীকরণ
দিল্লি আবগারি মামলার এই রায় জাতীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে কেজরিওয়াল শিবিরের মনোবল চাঙ্গা, অন্যদিকে তদন্ত সংস্থার ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্ক তীব্র।


কেজরিওয়াল বলেছেন, দেশের বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থা ছিল এবং আছে। বিচারককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংবিধান রক্ষার বার্তাও দেন। এখন প্রশ্ন—এই রায় কি বিরোধী রাজনীতিকে নতুন জোটবদ্ধতার পথে এগোতে প্রেরণা দেবে? নাকি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়াবে?

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে বলা যায়, এই রায় শুধু আইনি লড়াইয়ের সমাপ্তি নয়, বরং ২০২৬-২৭ সালের বৃহত্তর জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনাবিন্দু। “সত্যমেব জয়তে” স্লোগানটি আপাতত কেজরিওয়ালের শিবিরে বিজয়ের প্রতীক। তবে গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনতা—সেই পরীক্ষাই সামনে।

আজকের খবর