কলকাতা সারাদিন নিউজ ডেস্ক
অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের পাঠানো এনআরসি নোটিশে চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারের তুফানগঞ্জে। শতবর্ষের বেশি সময় ধরে বাংলার বাসিন্দা হয়েও মোমিনা বিবি ও দীপঙ্কর সরকারের নামে এল নাগরিকত্ব প্রমাণের নির্দেশ। আতঙ্কে পরিবার, সরব জেলা TMC নেতৃত্ব।
Assam NRC notice to Bengali সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযানে এবার নাম উঠল পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দুই বাসিন্দার। তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের রামপুর এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকার ও শালবাড়ি অঞ্চলের মোমিনা বিবি, দু’জনের কাছেই অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে নোটিশ এসে পৌঁছেছে।
দীপঙ্করের দাবি, তিনি জন্মসূত্রে বাংলার নাগরিক এবং পূর্বপুরুষরাও এখানেই ছিলেন। মাত্র কয়েক বছর আগে কাজের সূত্রে অসমে যান, পরে ফিরে আসেন কৃষিকাজে। অথচ Assam Foreigners Tribunal notice-এ বলা হয়েছে, তাকে অসমে গিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে, নাহলে বিএসএফের মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
দূরবর্তী তুফানগঞ্জের শালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোমিনা বিবির কাহিনী আরও হৃদয়বিদারক। প্রায় ৪০ বছর আগে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে এক বছর অসমে ছিলেন, তারপর চিরতরে ফিরে আসেন বাংলায়। আজ সেই একবারের যাত্রাই হয়ে দাঁড়িয়েছে NRC notice to Bengali woman মোমিনার জীবনের কাল।
রাজনীতির প্রতিক্রিয়া
নোটিশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে সরকার দুইজনের বাড়িতে যান এবং বলেন: “বাংলার মাটিতে জন্মানো কারও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিজেপি সরকারের চক্রান্ত। Bengali speaking citizens of Bengal কে ভয় দেখিয়ে কিছু হবে না, তৃণমূল পাশে রয়েছে।”
তিনি জানান, রাজ্য প্রশাসনও ইতিমধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দু’জনকে সবরকম আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
রাজনীতি না মানবাধিকার?
তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, এটা স্রেফ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়, বরং একটি স্পষ্ট human rights issue in NRC implementation। যাঁরা শুধুমাত্র শ্রমিক বা বিবাহসূত্রে অসমে গিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন চরম ব্যবস্থা ন্যায়সঙ্গত নয়।

বিজেপি সরকারের NRC targeting Bengali residents নীতিকে সামনে রেখে আসন্ন ২০২৬ নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।