শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, সোনার বাংলা নির্মাণ করতে পারে এমন সরকার তৈরি হোক রাজ্যে।’ দুর্গাপুজোর চতুর্থীতে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পূজো উদ্বোধন করে নিজের মনোস্কামনার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বরাবর চমকে দেওয়া থিম পুজোর জন্য বিখ্যাত কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সার্বজনীন দুর্গোৎসব। এবছর ‘অপারেশন সিঁদুর’ থিমের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে পুজোর থিম। শুক্রবার এই পুজোর উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে পুজোর উদ্বোধনেও এড়াল না রাজনৈতিক বিতর্ক। মঞ্চ থেকেই শাহের মন্তব্য, ‘এই নির্বাচনের পর বাংলায় এমন সরকার তৈরি হোক, যারা সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।’ ২০২৩ সালে রাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল কলকাতার অন্যতম বড় পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। সেই বছরেও অমিত শাহ পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন। দু’বছর পর ফের তাঁর হাতেই উদ্বোধন হল সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের দুর্গোৎসবের। এদিন অমিত শাহ যেতেই মণ্ডপ চত্বর থেকে ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। পরে মণ্ডপে প্রদর্শিত থিমের অডিও-ভিস্যুয়াল প্রেজেন্টেশনও দেখেন তিনি। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘দুর্গাপুজো আজ আর শুধু বাংলার নয়, সারা বিশ্বের উৎসব। গোটা বিশ্ব বাংলার এই মহান ঐতিহ্যকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। ন’দিন ধরে বাংলা শক্তির পুজো করে, নিজেকে সমর্পিত করে। এই দিনগুলি বাংলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
কালীঘাটে অমিত শাহ
আগামী বছর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যে জয় শ্রীরাম স্লোগান ছেড়ে মা দুর্গা আর মা কালী বলবে তা দুর্গাপুরের জনসভা থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার তাই কলকাতায় দুর্গাপূজা উদ্বোধন করতে এসেও কালীঘাটে কালী মন্দিরে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও কয়েক হাত দূরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার মতো কোন নাটকীয় ঘটনা ঘটেনি। কালীঘাটে মন্দিরে পূজা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি যে পথে হাঁটলেন, সেই পথেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তিনি যেখানে গাড়িতে উঠছেন তার পিছনেও দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীরই ব্যানার। এক কথায়, কালীঘাটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আর সেই কালীঘাটই ‘ঢাকা’ মমতার ব্যানারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জায়গা পেলেন, তবে সামান্য। তবে বিপত্তি ঘটে পূজো দিয়ে বেরোনোর সময়। কালীঘাট মন্দির থেকে বেরনোর সময় পিছন থেকে আচমকা কয়েকজন যুবক জয় বাংলা বলে ওঠে। কিন্তু কেউ কিছু বোঝার আগেই সেই যুবকরা ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে যায়। যদিও, তৃণমূল এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে। ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কাউন্সিলর প্রবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ওদেরই লোক এই সব করেছে। আমাদের লোক করবে এমনটা হতেই পারে না। আমরা এই সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য বলেন, অমিত শাহের ফ্লেক্স ছেঁড়া হয়েছে। সকালবেলা জয় বাংলা পোস্টার লাগানো হয়েছে।

কালীঘাটে পুজো দেওয়ার পরে অমিত শাহ জানান, আজ সকালে মায়ের পুজো দিয়ে প্রার্থনা করেছেন বাংলার জন্য। ‘এই নির্বাচনের পর বাংলায় এমন সরকার তৈরি হোক, যারা সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। কবিগুরুর কল্পনার বাংলাকে আমরা ফের প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
একইসঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি আর মহিলাদের শিক্ষার জন্য বিদ্যাসাগরের অবদান ভোলার নয়। তিনি নিজের পুরো জীবন সমাজকে উৎসর্গ করেছিলেন। আজ তাঁর জন্মদিনে আমার এবং বিজেপি-র সকলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাই।’