দুর্গাপুজো শেষ হতেই কি তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়? রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এটাই। চতুর্থীর দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে জল্পনার পারদ চড়িয়েছেন শোভন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
অভিষেক-শোভনের দীর্ঘ বৈঠক
বৈঠকের পর শোভন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিষেকের সঙ্গে অনেক পুরনো প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ হয়েছে। শুধু স্মৃতিচারণ নয়, দলের কাজের ব্যাপারেও কথা হয়েছে। শোভনের কথায়, “আমি অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে খুব মুগ্ধ হয়েছি। আমি বলেছি, যে কাজেই লাগাবেন, সেভাবেই আমি দায়িত্ব নিতে রাজি।”
এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বহুদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও তিনি ফের সক্রিয় হতে চাইছেন।
BJP অধ্যায়ের ইতি
মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি গেরুয়া শিবিরে গিয়েছিলেন। তবে সেই যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েকটি সভা-সমাবেশে হাজিরা দিলেও শোভন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে সরে আসেন। বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
মমতার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট
তৃণমূলের সমালোচনায় গত কয়েক বছর তেমন সরব ছিলেন না শোভন। বরং ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে ফোঁটা নেওয়ার ছবি বারবার শিরোনামে এসেছে। এই ছোট ছোট পদক্ষেপই রাজনীতির অন্দরমহলে প্রশ্ন তুলেছিল— ‘কানন’ কি আবার ফিরতে চলেছেন জোড়াফুলের ঘরে?
বৈশাখীর ভূমিকা
শোভনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সবসময় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ বারও তিনি অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে— বৈশাখীও কি শোভনের সঙ্গে তৃণমূলে ফিরবেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার পুরনো মেয়র হিসেবে শোভনের অভিজ্ঞতা দলকে অবশ্যই শক্তি দেবে। বিশেষত কলকাতা কর্পোরেশন বা শহরভিত্তিক রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এখনও কার্যকর। অভিষেকের সঙ্গে বৈঠক তাই নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বড় কিছুর ইঙ্গিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজো পরবর্তী সময়ে রাজ্য রাজনীতির নজর থাকবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। তৃণমূলে তাঁর প্রত্যাবর্তন হলে দলীয় সংগঠনে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, তা থেকেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে— খুব শিগগিরই ঘটতে চলেছে শোভনের ‘গ্রেট কামব্যাক’।