সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ভারতে আধার কার্ড রয়েছে প্রায় 142 কোটি মানুষের। যার মধ্যে জন্মসূত্রে ভারতীয় নন এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা মাত্র 11272 জন! শতাংশের হিসেবে মাত্র ০.০০০৭ শতাংশ! সিন্ধুতে বিন্দুমাত্র! তবে এই তথ্য কোন মনগড়া গল্প অথবা রাজনৈতিক দলের দেওয়া পরিসংখ্যান নয়। ভারতে আধার কার্ড ইস্যু করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন। ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে আরটিআই করে লিখিতভাবে এমন জবাব পেয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট সমাজকর্মী সাকেত গোখলে। তাই বাংলা সহ দেশের ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া করে অবৈধ নাগরিকদের ভারত থেকে তাড়ানোর জন্য যে বিশাল কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে তাতে আধার কার্ডকে বৈধতা না দেওয়া আসলে কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত সরকারের সুগভীর চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার শুরুর পর থেকেই বারে বারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে দাবি করেছেন গোটা দেশেও অসংখ্য জাল আধার কার্ড রয়েছে বিদেশি নাগরিকদের কাছে। যারা নাকি ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আধার কার্ড বানিয়ে নিয়েছে। তাই ভারতের ১৪২ কোটি বাসিন্দার মধ্যে প্রত্যেককেই নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া কয়েকটি নথিপত্র দেখিয়ে। যেখানে নাগরিকত্বের নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না আধার কার্ডকে। কিন্তু এই যুক্তি একেবারেই ছেঁদো অজুহাত বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
তৃণমূল রাজ্য সভার সাংসদ সাকেত গোখলে আজ আধার কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত আরটিআই জবাব পোস্ট করার পাশাপাশি দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসলে বাংলা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভোটার তালিকায় সংশোধনের নাম করে এসআইআর-এর অজুহাতে এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাই দেশবাসীর কাছে বারে বারে মিথ্যে কথা বলে চলেছেন যে কোটি কোটি আধার কার্ড জাল হয়ে যাওয়ার ফলেই আধার কার্ডকে আর নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। এখানেই সাকেত প্রশ্ন তুলেছেন, আধার কার্ড ইস্যু করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশেই প্রত্যেক ভারতীয়র বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। চোখের মনি থেকে হাতের দশটা আঙুলের বায়োমেট্রিক ডেটা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং আধার কর্তৃপক্ষের কাছে। তাই কোন আধার কার্ড আসল না নকল তা খুঁজে বের করার জন্য যে কোন কম্পিউটারের সামনে 10 সেকেন্ড ব্যয় করলেই যথেষ্ট। তার জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কোন প্রয়োজন নেই।

আধার কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত জবাব সামনে রেখে বিশিষ্ট সমাজকর্মী সাকেত গোখলে আজ দাবি তুলেছেন, স্বীকৃতভাবেই যেখানে আধার কর্তৃপক্ষ জেনে গিয়েছেন যে গোটা দেশে মাত্র ১১২৭২ জন বিদেশির কাছে আধার কার্ড রয়েছে অর্থাৎ তারা ভারতীয় নাগরিক নন। তাহলে এই যে বিপুল ঢাক ঢোল পিটিয়ে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে তা আসলে বিপুলসংখ্যক মানুষকে তাদের ন্যায্য ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা। আর কাদের বাদ দেওয়া হবে সেই বাছাই করার ভিত্তি হল যে সমস্ত মানুষ বিজেপিকে ভোট দেন না তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে যেন তেন প্রকারেণ ছেঁটে ফেলা!