শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।

সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর অভিযানে সেনাবাহিনীর সাফল্যে আমরা সকলেই গর্বিত। কিন্তু বিশ্বের মানুষের পাশাপাশি দেশবাসীর এই অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করবো অবিলম্বে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করুন। গত সপ্তাহেই এমন দাবি তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আর মমতার দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই এবারে দেশের ১৬ বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠানো হলো অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিশেষ সংসদের অধিবেশন আহ্বান করার দাবি জানিয়ে।

অপারেশন সিঁদুর সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা যেভাবে বারে বারে রাজনৈতিক সভায় গিয়ে অপারেশন সিদুরের সাফল্যকে নিজেদের রাজনৈতিক সাফল্য বলে দাবি করে আসছিলেন তার প্রেক্ষিতে কত কিছুদিন ধরে ক্রমেই জোরালো হচ্ছিল দাবিটা। বারবার সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। এবার অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশনের দাবিতে এককাট্টা বিরোধীরা। সেই দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিল ১৬ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আলাদা করে চিঠি দিয়েছে আম আদমি পার্টি। সকলের দাবি অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে বিস্তারিত তথ্য দিক কেন্দ্র। দিল্লির কন্সস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকের পর একযোগে দাবি ইন্ডিয়া জোটের শরিক সমস্ত রাজনৈতিক দলের। আজ দিল্লিতে এ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেয় কংগ্রেস, তৃণমূল, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, সমাজবাদী পার্টি, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা-সহ জোটের অন্যান্য দলগুলো।

দেশের ১৬ বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রবীণ সাংসদদের দাবি, পহেলগাঁও-এ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর বিরোধী দলগুলো সরকারের পাশে ছিল। অপারেশন সিঁদুর নিয়েও বিরোধীরা ভাজপা সরকারকে সমর্থন জানিয়েছে। এবার তাদের দাবি মেনে মোদি সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকুক। সাংসদদের প্রশ্ন, পহেলগাঁও থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর- একের পর এক ঘটনা নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা হওয়া উচিত। এছাড়া, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ স্থগিতের বিষয় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা কী, সেটাও সরকার নিজে মুখে খোলসা করুক। তাই বাদল অধিবেশনের আগেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকাটা জরুরি।

 

দিল্লিতে আজ বৈঠকের পরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ১৬ দল প্রধানমন্ত্রীকে এ নিয়ে একটা চিঠি দিয়েছে। সংসদে উত্তর দেওয়া সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর সংসদের দায়িত্ব জনতাকে উত্তর দেওয়া। তাই এ নিয়ে আমরা অধিবেশন চাইছি।

চিঠিতে প্রথম স্বাক্ষর করেছেন রাহুল গান্ধী। দ্বিতীয় স্বাক্ষর করেছেন অখিলেশ যাদব, তৃতীয় স্বাক্ষর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভা, রাজ্যসভার বাকি সাংসদরাও স্বাক্ষর করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখার সিদ্ধান্তে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও, নেই আম আদমি পার্টি এবং এনসিপি। আম আদমি পার্টি এবং এনসিপি আলাদাভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখছে বলে খবর।

আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, দীপেন্দর হুডা, সমাজবাদী পার্টির রাম গোপাল যাদব, তৃণমূলের ডেরেক ও ব্রায়েন, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত এবং আরজেডি-র মনোজ ঝাঁ। বৈঠক শেষে কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা বলেন, অপারেশেন চলার সময় আমরা সরকারকে সমর্থন করেছি। আমরা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সেনাবাহিনীকে সার্বিক অভিনন্দন জানাতে চাই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে আমরা কতটা সফল হতে পেরেছি সরকারকে তার উত্তর দিতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *