শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
আমরা ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশ, অসমের মতো এই ধর্ষকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমা নেব, খরচও করব। এভাবেই উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ এর মডেল অনুসরণ করে বাংলার ক্ষমতায় এলে বাংলাতেও এনকাউন্টার রাজ চালুর হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের ভূমিকা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত উত্তর প্রদেশ বা অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেভাবে পুলিশ এনকাউনটার করে ধর্ষকদের শাস্তি দেওয়ার রীতি চালু করেছে তা অনুসরণ করার ইঙ্গিত দেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মধ্যে এক ওয়ার্ড গার্লকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ফেসিলিটি ম্যানেজার জাহির আব্বাস খানের বিরুদ্ধে। সোমবার নির্যাতিতা পাঁশকুড়া থানায় জাহিরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জাহিরকে গ্রেপ্তার করে। নির্যাতিতার অভিযোগ, জাহির তাঁকে হাসপাতালের একটি ঘরে একাধিক বার ধর্ষণ করেছে। হাসপাতালের একাধিক মহিলা নিরাপত্তাকর্মীও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু বলেন, জাহির আব্বাসদের তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপ্রদেশ, মণিপুরে কিছু ঘটলে মুখ্যমন্ত্রী চিৎকার করেন। পাঁশকুড়ার ঘটনায় ওঁর মুখে কোনও শব্দ নেই। আমরা জাহির আব্বাসের ফাঁসি চাই। দু’-একদিনের মধ্যে আমাদের বিধায়কদের একটি দল পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যাবে। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, চিকিৎসকদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলবেন। এর শেষ দেখে ছাড়ব।
তবে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে উত্তরপ্রদেশ মডেল অনুসরণ করে বাংলাতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এনকাউন্টার চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, খরচ শব্দ দিয়ে তিনি আসলে এনকাউন্টার-ই বোঝাতে চেয়েছেন। তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, রাজ্যটার নাম উত্তরপ্রদেশ কিংবা অসম নয়, পশ্চিমবঙ্গ। এখানে শেষ কথা বলে গণতন্ত্র। কথায় কথায় এনকাউন্টারের কথা বলে শুভেন্দু কী বোঝাতে চাইছেন? রাজ্যটা কি মগের মুলুক নাকি! তৃণমূল প্রথম থেকেই নির্যাতিতার সঙ্গে আছে। শনিবার পাঁশকুড়ায় আমরাও মিছিল করছি। সেখানেই শুভেন্দুর কথার জবাব দেবো।
অন্যদিকে, রাজ্যে এসআইআর চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শুভেন্দু বলেন, আগে আইপ্যাক-সহ অনেকে যা করেছে এবার তা হতে দেব না। তৃণমূলের কাউকে বিএলও হিসেবে রাখা যাবে না। আমরা কমিশনে ১০ হাজার জনের তালিকা দিয়েছি। আরও দেব। এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। তৃণমূল-যোগ থাকা বিএলওদের সরাতে বাধ্য হবেন বিডিও থেকে জেলাশাসকরা।