সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

আগামী ২০২৯ সালের লোকসভারের পাওয়ার জন্য বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যে সোমবার দিল্লিতে মেগা বৈঠকে বসতে চলেছে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিক রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই বৈঠকের প্রস্তুতি সারার জন্য শনিবার সন্ধ্যাতেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সোমবারের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যোগ দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন। কারণ বিধানসভার সই জালিয়াতি কান্ড সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার দুপুরেই ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে গত শুক্রবার পর পর দুবার রক্ষাকবচের জন্য আবেদন করেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি হাজিরা এড়ানোর পথ খুঁজে পাননি। এই পরিস্থিতিতে তিনি কি করবেন তার দিকেও নজরে রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হারানোর পর থেকে জাতীয় স্তরে এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলারদের নিয়ে রবিবার বৈঠক করার কথা ছিল দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

 

আর এ দিনই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যেতে হচ্ছে মমতাকে। স্বাভাবিক ভাবেই মমতা থাকতে না-পারায় বাতিল হলো রবিবার তৃণমূল কাউন্সিলরাদের বৈঠক। রবিবার দুপুর ৩টেয় ইএম বাইপাস লাগোয়া তৃণমূল ভবনে পুরসভার সকল কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠক করার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রীর। ইতিমধ্যেই মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ফলত, পুরসভায় দলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? তা নিয়ে আলোচনার জন্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

 

তীব্র ব্যঙ্গ বিজেপির

দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের হাই-প্রোফাইল বৈঠকের ঠিক আগে তৃণমূল এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে তীব্র নিশানা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। রবিবার তিনি দাবি করেন, ‘তৃণমূল এখন পুরোপুরি ছন্নছাড়া ও ভেঙে পড়েছে। আসল তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে নেই।’ একই সঙ্গে তিনি তোপ দেগে বলেন, সিপিএম এবং ডিএমকে-র মতো জোটের প্রধান শরিক দলগুলি ইতিমধ্যেই এই মঞ্চ থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে, ফলে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রাসঙ্গিকতা এখন পুরোপুরি শেষ।’ পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মমতা এবং অভিষেকের দিল্লি যাওয়ার প্রসঙ্গে তীব্র ব্যঙ্গ করে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওঁর সঙ্গে তো নিজের দলই নেই, ওঁর সঙ্গে আবার থাকবে কে?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *