সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
শালবনিতে ১৬ হাজার কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে ৮০০ মেগা ওয়াট করে দু’টি পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করছে জিন্দল গোষ্ঠী। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই সেই প্রকল্পের শিলান্যাস করে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হলো পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে জানান, “সবুজ শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই যাত্রা রাজ্যের আত্মনির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক। ভবিষ্যতে আরও এমন প্রকল্প নেওয়া হবে রাজ্যজুড়ে।”
১১২.৫ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হবে ৭৫০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ১২০ টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মেদিনীপুরের অনুষ্ঠান স্থল থেকে মমতা বলেন, শালবনির ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে জেলার ছেলে মেয়েরা চাকরির সুযোগ পাবেন। আটলক্ষের বেশি মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে পেরেছি উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি এদিন দাসপুরে গোল্ড হাবের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্পের সম্ভাবনা এগিয়ে চলেছে। শালবনির পাশাপাশি খড়গপুরে স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। উন্নয়নের কথা বললে এতটাই বলতে হয় যে আপনাদের গোটা সময়টাই চলে যাবে।
এর সঙ্গে বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াট ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট উদ্বোধনের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বক্রেশ্বর, পুরুলিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শিল্প নিয়ে বিরোধীদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। দেউচা পাঁচামি হয়ে গেলে আগামী ১০০ বছর ভাবতে হবে না।”
এদিনের সভায় প্রথম ভাষণ দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এরপরেই জেলার মানুষদের হাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলন্যাস করেন মমতা। গোয়ালতোড়ে পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ১১২.৫ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ৭৫০ কোটি টাকা। এছাড়াও, ৩৩.৮৫ কোটি খরচে মেদিনীপুরে জল সংশোধনাগার, ঘাটাল ও খড়্গপুরে জলের প্রকল্পের জন্য ১৯৪ কোটি, ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্ষীরপাই-রামজীবনপুর রাস্তা, পুরুলিয়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াট ভাসমান সোলার প্ল্যান্ট তৈরির কথা ঘোষণা করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যত বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তত বিদ্যুতের দাম কমবে।

তিনি আরও জানান, শালবনির ২০০০ একর জমিতে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হবে। সেখানে জেলার ছেলেমেয়েরা চাকরির সুযোগ পাবেন। মেদিনীপুরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল পেলেন শালবনি, আজ পেলেন গোয়ালতোড়, রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ৫০ সজ্জা বিশিষ্ট বেডে তৈরি করা হয়েছে, যার খরচ ২৩ কোটি ২৭ লক্ষ্য টাকা। আনন্দপুর গ্রামীণ ১০ বেড়ের করা হল। ২১২ প্রকল্পের শিলান্যাস করা হলো। ৩২১ প্রকল্পের উদ্বোধন হলো। গ্রিন এন্ড ক্লিন এনার্জিতে জোর দেওয়া হয়েছে। ২৫ টি দমকল মেসিনের উদ্বোধন করা হয়। কালকে ২০০০ একর জায়গা নিয়ে শালবনিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের উদ্বোধন করেছি। আজকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলাম। আমি যদি উন্নয়নের কথা বলি শেষ হবে না। ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কোপালেশ্বরী কেলেঘাই করে দিয়েছি। শিল্পকে গল্পের পর্যায়ে ফেললে হবে না, ছোট ছোট স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর মধ্যে দিয়েও শিল্প হয়। শালবোনিতে আরও দুটো পাওয়ার প্লান্ট করবে ওরা কথা দিয়েছে। সব পাওয়ার প্লান্ট গুলো তৈরি হয়ে গেলে বাংলায় আর কোনো দিন বিদ্যুৎ এর অকুলান হবে না। ৬ টি ইকোনমিক করিডোর হচ্ছে, আপনাদের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা দিয়ে দুটো যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়ায় জেলায় ৭২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হবে। ১০০০ ছোট ছোট শিল্প তৈরি করেছে।

বাংলা এখন স্কিল ডেভেলপমেন্ট এ নম্বর ওয়ান, বাংলা এখন গেটওয়ে। আজকের ছাত্র ছাত্রীরা অনেক খুশি, তারা সাইকেল পায়, স্কলারশিপ পায়। কৃষকদের জন্য ফাটিলাইজার প্ল্যান তৈরি করছি। সবং এ মাদুর তৈরির কারখানা আছে। মঞ্চ থেকে দাসপুরে গোল্ড হাবেরও উদ্বোধন করা হয়। বিরসিংহে বর্ণপরিচয় গেটের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার বাড়ি আমরা নিজেদের টাকায় করে দিচ্ছি। ঘাটাল, মুর্শিদাবাদ ও জলপাইগুড়ি তে ক্ষতিগ্রস্ত দের বাংলার বাড়িতে নাম জমা করা হয়েছে।”
মুর্শিদাবাদ দাঙ্গা প্রসঙ্গে মমতা এদিন বলেন, “আমারা কেউ দাঙ্গা চাই না, বহিরাগতরা স্থানীয় কিছু লোককে দাঙ্গা করেছে। কীভাবে করেছে সেই চক্রান্ত ফাঁস আমরা করব। যারা মারা গেছেন তাদের ১০ লাখ ক্ষতিপূরণ। বাড়ি যাদের ভেঙেছে তারা বাংলার বাড়ি পাবেন। আমি মে মাসের ফার্স্ট উইকে যাব বাকিটা দেখে নেব। দীঘায় আমরা জগন্নাথ মন্দির করছি। অক্ষয় তৃতীয়ার উদ্বোধন। ওই দিন ব্লকে ব্লকে এলইডি থাকবে। যারা যেতে পারবেন না তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।”