সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ূন কবীর। হুমায়ূন কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভাঙার ঘোষণা করলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। শুক্রবার ভোরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওয়াইসির দল মজলিশ-ই-ইত্তেহাদ-উল-মুসলিমিন জানিয়ে দেয় বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে নয়, একাই লড়বে তারা। হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধেছিল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম। মুর্শিদাবাদের নওদায় সভা করতে এসে ডুবতলা ময়দানে সভা করতে এসে হুমায়ুন এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সদস্যদের জেতানোর ডাকও দিয়েছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তৃণমূলের প্রকাশিত স্টিং অপারেশন ঘিরে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য। যে বাবরি মসজিদ তৈরির দাবী ঘিরে দিনের পর দিন হুমায়ুন কবীর শিরোনামে থেকেছেন, তা নিয়েই তৃণমূলের প্রকাশিত ভিডিওতে শোনা গিয়েছে মারাত্মক কথা। সেই অভিযোেগ মিথ্যে দাবী করার পরও বড় ধাক্কা খেলেন হুমায়ুন। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা ঘটার পরেরদিনই জোট ভাঙার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন ওয়াইসি।
শুক্রবার এক্স পোস্টে মিম জানিয়েছে, ‘হুমায়ুন কবীরের প্রকাশ করা তথ্যগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে বাংলার মুসলমানরা কতটা অসহায় অবস্থায় আছেন। এআইএমআইএম এমন কোনও বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না, যেখানে মুসলমানদের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আজ থেকে এআইএমআইএম, কবীরের দলের সঙ্গে তাদের জোট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বাংলার মুসলমানরা অন্যতম দরিদ্র, অবহেলিত এবং নিপীড়িত একটি জনগোষ্ঠী। কয়েক দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন থাকা সত্ত্বেও তাদের জন্য কিছুই করা হয়নি। যেকোনও রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে এআইএমআইএম-এর নীতি হল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর পায়। আমরা বাংলার নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং ভবিষ্যতে কোনও দলের সঙ্গে আমাদের কোনও জোট থাকবে না।’
এই ঘোষণার পরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সুপ্রিমো হুমায়ুন দাবি করেন, ওয়াইসিকে ছাড়া এই লড়াই মোটেও ‘কঠিন হবে না’। তাঁর কথায়, ‘ওয়াইসির উপরে নির্ভর করে দল গড়িনি। যে লড়াই আমি শুরু করেছি তার থেকে পিছু হটব না।’ একইসঙ্গে ভাইরাল ভিডিয়ো প্রসঙ্গেও মুখ খুললেন তিনি। এআইএমআইএম-এর জোট ভঙ্গের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ওঁর সিদ্ধান্ত উনি নিতেই পারেন। এই ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নই। তাঁর দলের প্রার্থীরাও চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন কি না, সেই ব্যাপারে নিজেদের দলের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন।’ পাশাপাশি তিনি জানান, কেউ যদি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান বা নীতি মেনে চলতে চান, তা তাঁদের নিজস্ব অধিকার। গত ২৫ মার্চ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছিলেন, বাংলার ভোটে তাঁরা জোট বেঁধে লড়বেন। সেই মতো মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমানের ১০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথাও হয়। কিন্তু এ দিনের ঘোষণায় সেই পরিকল্পনা এখন অতীত। ভাইরাল ভিডিয়ো প্রসঙ্গে হুমায়ুন এ দিন দাবি করেন, তৃণমূল যে ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে, তা কবে, কোথায় এবং কার সঙ্গে কোনও চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি-তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে কোনও চুক্তি করিনি।’
জোট ভেঙে যাওয়ায় একা লড়াই কঠিন হওয়ার প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে হুমায়ুনের দাবি করেন তিনি মিম প্রধান ওয়াইসির মুখাপেক্ষী হয়ে দল করেননি। তাই ময়দানের লড়াই তিনি ছাড়বেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি একাই জন্মেছি, একাই মরব। খালি হাতে এসেছি, খালি হাতেই চলে যাব। আমি যে লড়াই শুরু করেছি, সেখান থেকে পিছু হটব না। এক ইঞ্চি জমিও কাউকে ছাড়ব না।’ তাঁর সংযোজন, কারও উপর তিনি কোনও চাপ সৃষ্টি করেননি এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কারও উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠেনি। একইভাবে অন্য পক্ষও তাঁর উপর নির্ভর করে রাজনীতিতে আসেনি বলে দাবি তাঁর।

অন্যদিকে, তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘যে সত্য আমরা প্রথম দিন থেকে জানতাম সেই সত্যটি গতকাল প্রকাশ্যে একটি ভিডিওতে প্রমান হলো – বিজেপি দল বাংলাতে হুমায়ুন কবিরকে ১০০০ কোটি টাকার বিনিময়ে মুসলিমদের বোকা বানিয়ে ভোট বিভাজনের কাজে লাগিয়েছিল। আজ আরেকটি বিজেপি দ্বারা পরিচালিত পার্টি এআইএমআইএম নিজের মুখরক্ষার জন্য হুমায়ুন থেকে দূরত্ব তৈরী করছে। কেউ বোকা নয় – আমরা সব বুঝি। দয়া করে এই সাম্প্রদায়িক বিজেপি এর এজেন্ট দের একটা ভোট ও দেবেন না।’