সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে সম্মান জানাতে বাংলার সরকারের নিজস্ব কোষাগার থেকে চালু করা রাজ্যের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসূচি প্রকল্পের নাম বদলে রাখবেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নামে। ঘোষণা করার 24 ঘন্টার মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নাম উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জাতির জনককে অপমানের অভিযোগ তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জাতির জনক ও মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলার মানুষ জানে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন বাংলার কর্ম শ্রী প্রকল্পের নামকরণ হবে জাতির জনকের নামে।
এই ঘোষণা মত এবারে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে মহাত্মা গান্ধীর নামে মহাত্মা শ্রী করার অনুষ্ঠানে কে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা মাফিক কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদল করার নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর। সর্বোচ্চ ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হবে ১০০ দিনের জব কার্ড হোল্ডারদের।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিরোধীদের তুমুল আপত্তি, বিক্ষোভ সত্ত্বেও লোকসভায় পাশ হয়েছে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বিল। ২০ বছর পরে বদলে যেতে চলেছে কংগ্রেস আমলে শুরু হওয়া ‘মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’-এর নাম। এই নামবদলের চর্চা শুরু হতেই আসরে নেমেছে বিরোধীরা। মহাত্মা গান্ধির নাম প্রকল্প থেকে সরানোর অভিযোগে যখন সরব বিরোধীরা, সেই সময়ে বাংলা থেকে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় ব্যবসায়ীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মশ্রী আমরা শুরু করেছি। গান্ধিজির নাম তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমি খুব অপমান বোধ করেছি। ১০০ দিনের কাজের নামে গান্ধীজির নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। এর জন্য আমি কাউকে দোষ দেব না। কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম আমরা গান্ধীজির নামে রাখব। আপনি যদি গান্ধিজিকে সম্মান না দেন, আমরা জানি কীভাবে সম্মান দিতে হয়। সবাই বাংলার উপর হিংসা করে।’
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করতেই এই নামকরণ ও সংশোধন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘মহাত্মা-শ্রী’ প্রকল্পের আওতায় ‘মহাত্মা গান্ধী নারেগা প্রকল্পে’র জব কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে বছরে অন্তত ১০০ দিনের মজুরি ভিত্তিক কাজ দেওয়াই মূল লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের মাধ্যমে এই কাজগুলি বাস্তবায়িত হবে।

মার্চ ২০২৪-এ জারি হওয়া আগের বিজ্ঞপ্তির সব বিধান অপরিবর্তিত থাকছে, শুধু প্রকল্পের নাম ও উদ্দেশ্য নতুন করে স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো, উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিভিন্ন দফতরের প্রকল্পে জব কার্ডধারীদের যুক্ত করে কর্মসংস্থান তৈরি করা হচ্ছে। নতুন নামকরণের মাধ্যমে প্রকল্পটির সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে আরও সরাসরি যুক্ত করার বার্তাই দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।