সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় আমাদের নিজস্ব প্ল্যান্ট থেকে মেট্রো রেকের পাশাপাশি বন্দে মাতরম কোচ তৈরি করব। আমরা মেক ইন ইন্ডিয়ার মতো মেক ইন বেঙ্গলকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এভাবেই আজ কলকাতায় বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে মেক ইন বেঙ্গল মডেল তুলে ধরলেন টিটাগর রেল সিস্টেম লিমিটেডের কর্ণধার উমেশ চৌধুরী।
গত কয়েক বছরে কিভাবে মমতার উদ্যোগে বাংলায় বিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং শিল্পপতিরা কত সহজে কোনরকম বাধা ছাড়াই শিল্পের জন্য জমি পাচ্ছেন তা তুলে ধরে উমেশ চৌধুরী বলেন, আমরা আগে টিটাগড়ে শুধু ওয়াগন তৈরি করতাম। রাজ্যের বড় ওয়াগন তৈরির পাশাপাশি মেট্রোর রেক এবং ফলতায় জাহাজ কারখানা তৈরি করতে চলেছি। সেখানে ১৬-১৮ টা নেভি ভেসেল তৈরি করা হবে। খুব তাড়াতাড়ি জমি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এক বছরের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে।
টিটাগড় রেল সিস্টেম লিমিটেডের পাশাপাশি সাইকেল এবং ব্যাটারি চালিত সাইকেল তৈরির সংস্থা ইউনিক্সের কর্ণধার সুবীর চৌধুরী বলেন কিভাবে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় খড়্গপুরে তাদের সংস্থার নিজস্ব কারখানা থেকে চার লক্ষ সাইকেল তৈরির ক্যাপাসিটি তৈরি হয়েছে। তার জন্য মমতার শুরু করা সবুজ সাথী প্রকল্পে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার প্রকল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি এই ব্যবসা বাড়ানোর সাহস পেয়েছেন বলে জানিয়ে আগামী দিনের মেক ইন বেঙ্গল মডেলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এবারে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নির্ধারিত সময় আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে ছোট আকারে বিজনেস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ আয়োজন করেছিল রাজ্য শিল্প উন্নয়ন দপ্তর। সেখানে একদিকে যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের কর্ণধার উপস্থিত ছিলেন, ছিলেন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রথম সারির ইউরোপীয় বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্ণধার এবং বাংলা সহ দেশের সমস্ত প্রথম সারির শিল্প সংস্থার কর্ণধারেরা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হর্ষ নেওটিয়া, সঞ্জীব পুরি, সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, রুদ্র চট্টোপাধ্যায়, সঞ্জয় বুধিয়া, উমেশ চৌধুরীর মতো শিল্পপতিরা। দেশ বিদেশের শিল্পপতিদের সামনে বাংলায় বিনিয়োগের জন্য যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাংলায় মমতার সরকার কতখানি শিল্প বান্ধব পরিস্থিতি তৈরি করেছে গত সাড়ে চোদ্দ বছরে তার বিস্তারিত বিবরণ আজ সকলের সামনে তুলে ধরেন বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের ক্যাপ্টেন অফ ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্প সংস্থার কর্ণধারেরা।
সঞ্জীব গোয়েঙ্কা
আজ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে উঠেই গত সাড়ে ১৪ বছর ধরে কোন রাস্তায় রাজ্য বিনিয়োগ করে চলেছেন সেই খতিয়ান তুলে ধরেন আরপিএসজি গ্রুপের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বলেন, গত প্রায় দেড় দশকে ২৬৫০০ কোটি টাকা আমরা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করেছি। এটা সম্ভব হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। আমি আরও বিনিয়োগ করব। ৫০০০ মেগাওয়াট ব্যাটারি স্টোরেজ ১২০০০ কোটি টাকার প্রকল্প যা দেশের প্রথম হতে চলেছে যেটি এ রাজ্যে আমরা করতে চলেছি। আমরা আবেদন করেছি। পাশাপাশি উন্নত মানের হাসপাতাল করতে চলেছি। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ১৫৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প শুরু করব। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার এই বিপুল অংকের বিনিয়োগ প্রস্তাব শোনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান কত জমির প্রয়োজন। প্রায় ৬০০ একর জমির প্রয়োজন থাকলেও তিনি মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের শিল্প সচিব, মুখ্য সচিব এবং ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব কে নির্দেশ দেন রাজ্য মন্ত্রিসভার আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই ৩৫০ একর জমি বরাদ্দ করার প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য।
হর্ষবর্ধন নেওটিয়া
২০১১ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বসার পর থেকে বাংলায় কীভাবে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে তা তুলে ধরতে দেখা যায় অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়াকে। একইসঙ্গে মমতার প্রশংসা শোনা যায় তাঁর মুখেও। হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, সাঁকরাইল এবং ফারাক্কাতে দু’টি ইউনিট তৈরি হয়েছে। কলকাতাতে হেড কোয়ার্টার তৈরি করা গিয়েছে। ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ এই রাজ্যে। এরপরই হোটেল-হাসপাতাল নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ৭ টি হোটেল তাজ গ্রুপের সঙ্গে চলছে। আরও ১০ টা করতে চলেছি এ রাজ্যে। একটি হাসপাতাল দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ৩টি। আরও ৩টি হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছি দুর্গাপুর, তারাতলা এবং নিউ টাউনে। সার্বিক উন্নয় হচ্ছে গোটা রাজ্যে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সেটাই করে চলেছেন।
সঞ্জীব পুরি, আইটিসি
২০১১ সাল থেকে বাংলায় যেভাবে শিল্পে বিনিয়োগের জন্য দুর্দান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরেন আইটিসি লিমিটিডের চেয়ারম্যান সঞ্জীব পুরী। গুগলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজের প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি বলেন, আমরা গত প্রায় ১১৫ বছর ধরে এ রাজ্যে কাজ করে চলেছি। তবে পশ্চিমবঙ্গে আমাদের বিনিয়োগের প্রায় ৭৫ শতাংশই করেছি 2011 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে। দু’টি হোটেল ছাড়াও নিউ টাউনে আইটি হাব করার পরিকল্পনা আছে। গুগল আমাদের পার্টনার।

অন্যদিকে জেকে গ্রুপের তরফে চৈতন্য সিংহানিয়া বলেন, আমরা প্রিন্টের পাশাপাশি খড়্গপুরে ফিড প্রসেসিং কারখানা তৈরি করতে পেরেছি। জেকে পেপার প্যাকেজিং কারখানা শুরু করা হয়েছে উলুবেড়িয়াতে।