প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন! দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পরে তৃণমূলে ফিরে এলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে ফিরে এলেন শোভন। শোভনের পাশাপাশি তৃণমূলে ফিরলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলে ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত শোভন বলেন, ‘আমার ধমনী, শিরা হল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘরের ছেলে হিসাবে আবার ফিরে এলাম। মমতাদি, অভিষেক যা দায়িত্ব দেবেন, সেটা আমি সম্পূর্ণভাবে পালন করব। দলকে শক্তিশালী করা আমার লক্ষ্য। এনকেডিএ-র দায়িত্ব পেয়েছি। নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করব। কোথাও ত্রুটি রাখব না। এই সুন্দর ঘরকে আরও শক্তিশালী করাই আমার ডিউটি।’
এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফের তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন অরূপ বিশ্বাস ও সুব্রত বক্সী। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেই এদিন ফের তৃণমূলে যোগ দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দুজনকেই দলীয় উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এই যোগদান প্রসঙ্গে অরূপ বিশ্বাস ও সুব্রত বক্সী বলেন, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের ঘরের ছেলে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছেন! এখন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মানুষের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে সামিল হবেন প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়।’ একইসঙ্গে তাঁরা স্বাগত জানান বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার নিজের ঘর, নিজের সংসার। এর সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ।দিদির আশীর্বাদেই দলে ফেরা। ঘরের ছেলে হিসেবে ঘরে ফিরলাম। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার জন্য আমার সামর্থ্য মতো, যেভাবে মমতাদি চাইবেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাইবেন, সেটাই হবে। দলকে শক্তিশালী করতে, আগামীদিনে আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ হবে, তা যথাযোগ্য ভাবে পালন করব। আমার সুন্দর ঘরকে আগামীদিনে আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলব। দলকে শক্তিশালী করতে মাঠে নামব। দল যা নির্দেশ দেবে তা পালন করব।’
তৃণমূলে যোগদানের পর সোজা তৃণমূল ভবন থেকে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান শোভন-বৈশাখী। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক তাঁদের তৃণমূলের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘শোভনদা, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এসেছেন। দু’জনকেই শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাঁরা দলের সৈনিক হিসাবে কাজ করবেন। আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের হাত আরও শক্তিশালী করবেন। শোভন চট্টোপাধ্যায় গত ৫-৬ বছর ধরে দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তবে সক্রিয় রাজনীতি থেকে এতদিন দূরেই ছিলেন। তবে এবার তিনি ফিরে এসেছেন। আশা করি দলীয় নেতৃত্বের কথা মতো ওঁরা তৃণমূলের হয়ে লড়াই করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মন্ত্রী ও মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আচমকা ইস্তফা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। পরে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি উড়ে গিয়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। যদিও বেশ কয়েক মাসের মধ্যেই গেরুয়া শিবির সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়েছিল শোভনের। বিজেপি ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ বসেছিলেন। বিজেপি ছাড়ার পরেই কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। মমতার কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েও ভাইফোঁটাও নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে শোভন তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলেও জোর চর্চা ছড়িয়েছিল। জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।
এদিকে শোভনের ‘ঘর ওয়াপসি’ হতেই উল্টোসুর রত্না চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। এক কথায় প্রশংসাই শোনা গেল তাঁর মুখে। তিনি বলেন, ৮ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। শোভন চট্টোপাধ্যায় কাজ করুন তিনি চান। কারণ শোভন ভাল প্রশাসনিক কাজ করতেন। প্রশাসন ভাল করে বুঝতেন। এনকেডিএ-র চেয়ারম্যান হয়েছেন অবশ্যই ভাল কাজ করবেন। রাজনীতিতে আজ যে বন্ধু, কাল সে শত্রু হতে পারে। আবার আজ যে শত্রু, কাল সে বন্ধ হতে পারে। এক সময় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মনে হয়েছিল তৃণমূলে কাজ করতে পারছেন না। সেই কারণে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁর ভাল লাগেনি। কাজ করতে পারেননি। কিছুদিন সময় নিয়েছেন। কথা বলেছেন শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। তাঁদের বলার পরেই তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কারও আপত্তি করার কিছু বলার নেই।