কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
“আবাস যোজনায় এখন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয় তৃণমূল সরকার। কিন্তু, ওই টাকায় কী হয়? আমরা ক্ষমতায় এলে ৩ লক্ষ টাকা করে দেব।” দিল্লিতে ২৬ বছর পর বিজেপি ক্ষমতায় ফেরা নিশ্চিত হতেই বাংলার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে বাংলায় তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে এক জনসংযোগ কর্মসূচি থেকে তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সরকারের চেয়ে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা বেশি দেবে। আবাস যোজনায় টাকা বেশি দেবে। দিল্লিতে ২৬ বছর পর সরকার পরিবর্তন হলে এখানেও সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ফের হিন্দুদের একজোট হওয়ার বার্তা দেন তিনি।
শনিবার মহিষাদল বিধানসভার হলদিয়া ব্লকের দেউলপোতা অঞ্চলে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দিল্লি আমাদের হয়েছে। ২৬-এ বাংলার পালা। মাঝে বিহারও রয়েছে। এবছরের নভেম্বরে বিহারে ভোট। সেখানে আমরাই জিতব। তারপরই ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলে বাংলায় ভোট।”
বাংলায় ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী পদক্ষেপ করবে, সেকথাও জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বিধবা ও বার্ধক্য ভাতা ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এখন তৃণমূল সরকার ১ হাজার টাকা করে দেয়। আবাস যোজনায় টাকা বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, “আবাস যোজনায় এখন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয় তৃণমূল সরকার। কিন্তু, ওই টাকায় কী হয়? আমরা ক্ষমতায় এলে ৩ লক্ষ টাকা করে দেব।”
দিল্লিতে এবারের বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন শুভেন্দু। এই নিয়ে তিনি বলেন, বাঙালিদের একত্রিত করার দায়িত্ব দিয়েছিল দল। সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। বাঙালিরা একজোট হয়ে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দিল্লিতে বিজেপির জয় নিয়ে তিনি বলেন, “দিল্লিতে এই হার শুধু আপের হার নয়। এই হার তৃণমূলেরও হার। কারণ, নির্বাচনের আগে আপকে সমর্থন করেছিল তৃণমূল।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় থেকে যে সনাতনী হিন্দুরা ভোট দিতেন না, তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। সেজন্য বিজেপির জয় নিশ্চিত হয়েছে।
দিল্লির গত দুই বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত ঝড় তুলেছিল আম আদমি পার্টি। তবে এবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে কেজরিওয়ালের। বিজেপির কাছে বড় ব্যবধানে হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তাঁদের। এই নিয়ে আপ সুপ্রিমোকে নিশানা করতে ছাড়লেন না বাংলার বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “ক্ষমতা হারিয়েছেন ফরজিওয়াল। এবার দিল্লির মানুষ ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা পাবে। তাঁদের আর কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না।”
শুভেন্দুর কথায়, এই জয় অত্যন্ত আনন্দের। দিল্লি মিনি ইন্ডিয়া। গোটা ভারতের মানুষ সেখানে থাকেন। কয়েক লক্ষ বাঙালি ভোটার আছেন। চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। ফলে মমতার বাহিনী কেজরিকে জেতানোর জন্য ঝাঁপিয়েছিল। শত্রুঘ্ন সিনহাকে পাঠানো হয়েছিল। আরও কয়েকজন গোপনে গিয়েছিলেন।
শুভেন্দুর দাবি, দিল্লিতে আপের হার তৃণমূলেরও হার। কারণ, এই নির্বাচনে আপের সমর্থনে লেপ্টে গিয়েছিল তৃণমূল। পরিবারবাদী, দুর্নীতিগ্রস্ত, তোষণবাজ পার্টিকে দিল্লির মানুষ রিজেক্ট করেছেন। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রে সরকার ছিল, সেখানে বিজেপি জিতেছে। হরিয়ানায় এগজিট পোল সব ফেল করেছে। প্রায় তিন দশক পর দিল্লিতে সরকারে ফিরছে বিজেপি। শুভেন্দু বলেন, মহারাষ্ট্রে ২০১৯ সালের ৬১ শতাংশ ভোট বেড়ে এবার হয়েছে ৬৬.৫ শতাংশ। দিল্লিতেও ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোট বেড়েছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে হিন্দু সনাতনী, সর্দারজিরা ভোট দিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের পূর্ব দিক, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, বাংলার পূর্বাঞ্চলী ভোটার অধ্যুষিত এলাকার সিংহভাগ আসন জিতেছে বিজেপি। তিনি বলেন, বুথগুলি থেকে হিসাব নিয়েছি। দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। তা পালন করেছি। বাংলার দুর্দশা, বেকারদের দুরবস্থা, আরজি করের ঘটনায় মহিলাদের চোখের জল, দুর্গাপুজো থেকে সরস্বতী পুজোয় ঠাকুর ভাঙা, পুজো বন্ধ, সরস্বতীর অপমানে দিল্লির বাঙালিরা সুদে আসলে প্রতিশোধ নিয়েছেন।

শুভেন্দুর হুঙ্কার, বিহারে বিজেপি ঝড়ে সব উড়ে যাবে। অসমে তো জিতেই রয়েছে। একটাই কথা বলব, আপ গিয়েছে, মমতা পাপকে এবার বিদায় করা হবে। শুভেন্দুর মতো একই সুরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, দিল্লিতে বিদায় হল আপ, এবার যাবে পশ্চিমবঙ্গের পাপ। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ফেসবুকে লিখেছেন, আজ আপ সাফ, কাল দিদি আপ!