সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘এই ভোট প্রতিবাদের ভোট, প্রতিশোধের ভোট। আমাদের যারা লাইনে দাঁড় করিয়েছে, বাঙালিকে ‘বাংলাদেশি’ বলেছে, আগামীদিনে তাদের লাইনে দাঁড়িয়েই জবাব দিতে হবে।’ রবিবার হুগলির একের পর এক জন সভার মঞ্চ থেকে এভাবেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করার জন্য বাংলার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির চুঁচুড়া ও সপ্তগ্রাম এলাকার মানুষকে তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য এবং বিদেশ বসুর সমর্থনে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান অভিষেক।
তিনি বলেন, ‘বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষকে কেবল লাইনেই দাঁড় করিয়েছে। কখনও এনআরসি-র নামে লাইন, কখনও নোটবন্দির জন্য লাইন, আবার কখনও রান্নার গ্যাসের জন্য লাইন। মানুষকে এই হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে হবে। সেদিন হয়তো গরম বেশি পড়বে, কষ্ট হবে। কিন্তু কষ্ট হলেও আপনাদের লাইনে দাঁড়াতে হবে। লাইনে দাঁড়িয়েই বিগত সব লাইনের হয়রানির যোগ্য জবাব দিতে হবে। হিন্দিতে একটা কথা আছে- ‘সৌ সোনার কি, এক লোহার কি’। বাংলায় আমরা বলি, স্যাকরার ঠুকঠাক, কামারের এক ঘা। আপনাদের কাছে সেই এক কোপ বা এক ঘা মারার সুযোগ আসবে ২৯ তারিখ। এমনভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জবাব দিতে হবে, যাতে ভোট বাক্স খুললে ওই বহিরাগতরা পদ্মফুলের বদলে চোখে সর্ষেফুল দেখে। তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফটাইম ওয়ারেন্টি, আর মোদীর গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি।’
বিহারে ভোটের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল এনডিএ সরকার। ভোটে জয়ের পরে এখন সেই টাকাই ফেরত চাওয়া হচ্ছে। না দিলে উপভোক্তাদের বাড়ি বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় সরকারে এলে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজেপি, যা তৃণমূলের দেওয়া নগদ অর্থের দ্বিগুণ।
এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিহারের প্রসঙ্গ টেনে পদ্মশিবিরকে চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক। বলেছেন, ‘তৃণমূল সরকারের মতো বাংলায় বিজেপি যদি বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারে, রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ তাঁর প্রশ্ন, দেশে বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। সেখানে কেন নিঃশর্তে মহিলাদের ভাতা দিতে পারেন না? তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে বলেছিল, সরকার গড়লে ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্টে ২৫০০ টাকা দেওয়া হবে। ১৪ মাস হয়ে গেল। কেউ পাঁচ পয়সা পাননি।’
জনসভার মঞ্চেই দলবদল
বাংলায় ভোটগ্রহণের আগে খুব বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিতে ভাঙন ধরালেন অভিষেক। রবিবার সপ্তগ্রামের ডানলপ কোয়ার্টার গ্রাউন্ডের জনসভায়, অভিষেক ব্যানার্জির হাত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা নেন গেরুয়া শিবিরের কয়েকজন নেতা। তাঁরা হলেন, বিশ্বজিৎ রায়, বাঁশবেড়িয়া মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক, প্রভাত গুপ্ত হুগলি জেলা যুব মোর্চা সাধারণ সম্পাদক, রাজেশ যাদব, হুগলি জেলা যুব মোর্চা সহ-সভাপতি, সুমিত অধিকারী প্রাক্তন সভাপতি, বাঁশবেড়িয়া মণ্ডল এবং সপ্তগ্রাম আইটি ইন-চার্জ-সহ আরও কয়েকজন।

বাংলা বিরোধী বিজেপি
বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা বিরোধিতার অভিযোগ তুলে এদিন সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, ‘গত পরশু দিন অমিত শাহ রানি রাসমণিকে বলেছে রানি রাসমতি। আপনি ভাবুন, আফগানিস্তানের তালিবান আর এই বিজেপি দলটার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। আফগানিস্তানে তালিবান গৌতম বুদ্ধের মূর্তি ভাঙে। আর এই বিজেপির গুণ্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অসম্মান করে। আমাদের বাংলাদেশি বলে। কেন? আমরা বাংলায় কথা বলি। মাছ খাই।’ বিজেপির উপ মুখ্যমন্ত্রী বিহারে কী বলেছেন মাছ-মাংস ইস্যুতে! এদিন সভা থেকে তাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক। কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি বাংলায় এই পরিবর্তন আনতে চায়। যাঁরা বাংলাকে বঞ্চিত করেছেন, আমাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছেন, আর আমাদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়েছেন, চার তারিখে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সঙ্গে হালকা করে একটু ডিজেও বাজবে। আমার চ্যালেঞ্জ, যদি বিজেপি দেখাতে পারে, পাঁচ বছরে একটা গরীব মানুষের অ্যাকাউন্টে বাড়ির জন্য বিজেপি পাঁচ পয়সা দিয়েছে, আমি হুগলিতে কোনওদিন আপনাদের কাছে তৃণমূলের হয়ে ভোট চাইতে আসব না।’