Supreme Court fatherhood judgement নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) এমন এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যা বিবাহিত জীবনে সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। আদালত জানিয়েছে—যদি বৈধ দাম্পত্য জীবনের মধ্যে কোনো সন্তান জন্মায়, তবে সেই সন্তানের আইনত পিতা হবেন স্বামীই, এমনকি জৈবিক পিতা অন্য কেউ হলেও।
রায়ের পেছনের আইনি ভিত্তি
এই সিদ্ধান্ত মূলত ভারতীয় প্রমাণ আইন, ১৮৭২ (Indian Evidence Act, 1872)-এর ১১২ নম্বর ধারার ওপর ভিত্তি করে।
এই ধারায় বলা হয়েছে—যদি কোনো সন্তান বৈধ বিবাহ চলাকালীন জন্মগ্রহণ করে, তবে আইনি ভাবে ধরে নেওয়া হবে যে সে সন্তান দম্পতিরই।
শুধুমাত্র তখনই এই ধারণা খণ্ডানো যাবে, যদি প্রমাণিত হয় যে স্বামী ও স্ত্রী গর্ভধারণের সময় একসাথে ছিলেন না (non-access) এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব হয়নি।
রায়ের মূল বক্তব্য
1. আইনি পিতৃত্বের স্বীকৃতি
বিবাহ চলাকালীন সময়ে স্ত্রী গর্ভবতী হলে, সন্তানের আইনগত পিতা হবেন স্বামীই।
2. ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়
আদালত বলেছে, ডিএনএ পরীক্ষা কোনো পক্ষের স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এটি কেবলমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে, সন্তানের কল্যাণ ও গোপনীয়তা বিবেচনা করে, আদালতের অনুমতিতে করা যাবে।
3. তৃতীয় পক্ষের দাবি অগ্রাহ্য
যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি পিতৃত্বের দাবি করে, কিন্তু স্বামী সেই দাবি স্বীকার না করেন, তবে আইনত সেই দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
সামাজিক সুরক্ষার উদ্দেশ্য
সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই রায়ের উদ্দেশ্য সন্তানের সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি পরিচয় নিশ্চিত করা।
এতে সন্তান সম্পত্তি, উত্তরাধিকার, এবং অন্যান্য আইনি অধিকারের সুরক্ষা পায়।
সন্তানের জন্মপরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে।
পারিবারিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, এবং সামাজিক অপবাদ থেকে সন্তানকে রক্ষা করা যায়।
জনমত ও বিতর্ক
এই রায় নিয়ে ভারতজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সমর্থনের কারণ
সন্তান রক্ষা: সামাজিক কলঙ্ক থেকে মুক্তি ও আইনি অধিকার বজায় রাখা।
পারিবারিক স্থিতিশীলতা: বিবাহিত সম্পর্কের ভেতরে পিতৃত্ব নিয়ে আইনি স্পষ্টতা।
গোপনীয়তা সুরক্ষা: ডিএনএ পরীক্ষা যেন সম্পর্কের ভাঙন না ঘটায়।
সমালোচনার কারণ
পুরুষদের উপর অন্যায্য চাপ: জৈবিকভাবে নিজের সন্তান নয় এমন সন্তানের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করা।
বিশ্বাসঘাতকতার প্রভাব: স্ত্রী যদি অবিশ্বস্ত হন, তবুও স্বামীকে আইনি ভাবে বাবা হিসেবে গণ্য করা, যা অনেকের মতে অন্যায্য।
সত্য গোপন রাখা: সমালোচকদের মতে, এই রায় সত্যের উপরে সামাজিক ভাবমূর্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রসঙ্গ
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে—ডিএনএ পরীক্ষা কোনো “রুটিন প্রক্রিয়া” হওয়া উচিত নয়।
কারণ:
সন্তানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ হয়।
পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের সামাজিক প্রভাব সন্তানের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ পরিস্থিতি
ধরা যাক, রাহুল ও অনন্যা ৫ বছরের বিবাহিত দম্পতি। একদিন রাহুল জানতে পারলেন যে অনন্যা অন্য কারও সাথে সম্পর্কে ছিলেন, এবং সন্তানের জৈবিক পিতা তিনি নন বলে সন্দেহ করছেন। কিন্তু রাহুল ও অনন্যা গর্ভধারণের সময় একই বাড়িতে ছিলেন।
আইন অনুযায়ী, এই সন্তানের আইনি পিতা রাহুলই থাকবেন—যতক্ষণ না রাহুল প্রমাণ করতে পারেন যে সেই সময়ে তারা একসাথে ছিলেন না।
রায়ের প্রভাব
বিবাহিত দম্পতিদের জন্য: পিতৃত্ব নিয়ে আইনি সুরক্ষা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সন্তানদের জন্য: পরিচয় ও উত্তরাধিকার অধিকারের নিশ্চয়তা।
সমাজের জন্য: সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারিবারিক মর্যাদা রক্ষা।
Supreme Court fatherhood judgement ভারতীয় পারিবারিক আইনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি সন্তানের কল্যাণ ও পারিবারিক স্থিতিশীলতাকে প্রাধান্য দিলেও, পুরুষদের অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এই রায় দেখিয়ে দিল, আইন অনেক সময় জৈবিক সত্যের চেয়ে সামাজিক বাস্তবতা ও সন্তানের ভবিষ্যতকে অগ্রাধিকার দেয়।