শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পেট্রোলের দাম যখন প্রায়ই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন বাইক কেনার সময় প্রথম প্রশ্নটাই হয়—“মাইলেজ কত?” ভারতের মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে আজ পারফরম্যান্সের চেয়ে সাশ্রয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই বাজারে এখন মাইলেজের লড়াই তুঙ্গে। নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে আধুনিক ইলেকট্রিক বিকল্প—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ৫টি বাইক নিয়ে এই বিশেষ প্রতিবেদন।
১️⃣ TVS Star City Plus – মাইলেজের রাজা
মাইলেজের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে TVS-এর এই জনপ্রিয় মডেল। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, ৮৬ কিমি প্রতি লিটার (kmpl) পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম এই বাইক। ১০৯.৭ সিসির ইঞ্জিন থেকে প্রায় ৮.০৮ বিএইচপি শক্তি উৎপন্ন হয়। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াত, অফিস বা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কার্যকর বিকল্প।
দাম শুরু প্রায় ₹৭০,০৫৮ (এক্স-শোরুম)। কম জ্বালানি খরচের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও তুলনামূলক সস্তা। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি পকেটবান্ধব সিদ্ধান্ত।
২️⃣ Bajaj Platina 110 – আরাম ও সাশ্রয়ের মেলবন্ধন
মাইলেজ ও আরামের সমার্থক নাম হয়ে উঠেছে প্লাটিনা। ১১৫.৪৫ সিসির ইঞ্জিনযুক্ত এই বাইক প্রায় ৭০ kmpl মাইলেজ দেয়। দীর্ঘ পথেও সিটের আরাম এবং সাসপেনশনের গুণমান চালকদের সন্তুষ্ট করে।
এক্স-শোরুম দাম শুরু ₹৬৮,৫৪৪ থেকে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর—সব জায়গাতেই এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
৩️⃣ TVS Sport – বাজেটের সেরা পছন্দ
যারা কম দামে নির্ভরযোগ্য বাইক চান, তাদের কাছে TVS Sport দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। ১০৯.৭ সিসি ইঞ্জিনের এই মডেলও প্রায় ৭০ kmpl মাইলেজ দিতে সক্ষম।
দাম শুরু মাত্র ₹৬০,৪৭০ থেকে, যা এই তালিকার অন্যতম কম। কলেজ পড়ুয়া থেকে ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ—সবার কাছেই এটি জনপ্রিয়।
৪️⃣ Hero Splendor Plus – বিশ্বাসের আরেক নাম
ভারতের রাস্তায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে বাইকটি, সেটি নিঃসন্দেহে হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস। ৯৭.২ সিসির ইঞ্জিনযুক্ত এই বাইক প্রায় ৬৫ kmpl মাইলেজ দেয়।
দাম শুরু ₹৬৯,৩৮০। সহজ রক্ষণাবেক্ষণ, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং কম সার্ভিস খরচ—এই তিন কারণে স্প্লেন্ডার এখনও মধ্যবিত্তের প্রথম সারির পছন্দ। বহু পরিবারের কাছে এটি শুধু একটি বাইক নয়, বরং দীর্ঘদিনের সঙ্গী।
৫️⃣ Revolt RV 400 – পেট্রোল খরচ শূন্যের পথে
তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক একটি ইলেকট্রিক বাইক। একবার সম্পূর্ণ চার্জে প্রায় ১৫০ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জ দেয় Revolt RV 400। পেট্রোলের খরচ একেবারে নেই বললেই চলে—চার্জিং খরচ প্রতি কিলোমিটারে কয়েক পয়সা মাত্র।
দাম প্রায় ₹১.২৫ লক্ষ থেকে শুরু। প্রথম বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচে বড় সাশ্রয় সম্ভব। স্মার্ট ফিচার, অ্যাপ কানেক্টিভিটি এবং আধুনিক ডিজাইন তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করছে।
কেন মাইলেজ এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে দৈনিক যাতায়াতের গড় দূরত্ব ২০–৪০ কিমি। সেই হিসেবে ৬৫–৮৫ kmpl মাইলেজের বাইক বছরে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, বাস্তব মাইলেজ নির্ভর করে—
রাইডিং স্টাইল
ট্র্যাফিক পরিস্থিতি
নিয়মিত সার্ভিসিং
টায়ারের সঠিক বায়ুচাপ
অর্থাৎ, শুধু কোম্পানির দাবি নয়—আপনার ব্যবহারের ধরনও বড় ফ্যাক্টর।
যদি আপনার অগ্রাধিকার কম জ্বালানি খরচ, কম রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স হয়, তাহলে উপরের পাঁচটি মডেলের যে কোনও একটি বিবেচনা করতে পারেন। পেট্রোলচালিত হোক বা ইলেকট্রিক—বর্তমান বাজারে মধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্পের অভাব নেই।
সঠিক বাইক বেছে নিলে শুধু জ্বালানি খরচই নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক চাপও অনেকটাই কমে যায়। এখন সিদ্ধান্ত আপনার—মাইলেজে কেল্লাফতে করবেন, নাকি পুরনো অভ্যাসেই থাকবেন?