সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“দুই- তৃতীয়াংশ ভোট নিয়ে ২৬-এর ভোটে আমরাই ফিরব। এখানে কংগ্রেসের কিছু নেই, আমরা একাই যথেষ্ট। বাংলায় কাউকে দরকার হবে না।” আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের সমস্ত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে কার্যত তৃণমূলের একা লড়াই করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পাশাপাশি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি আসন সমঝোতা না করার ফলেই বিজেপির কাছে হারতে হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আপের ভরাডুবি নিয়েও এদিন বৈঠকে মুখ খুলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “হরিয়ানায় আপ কংগ্রেসকে সাহায্য করেনি। তাই দিল্লিতে কংগ্রেস আপকে সাহায্য করেনি। দু’দল একসঙ্গে থাকলে এই ফল হত না। বাংলায় কাউকে দরকার হবে না।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ তিন দশক পর দিল্লীতে পদ্ম ফুটেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হতে চলেছে রাজধানীতে। আপ-কে সরিয়ে রাজধানীর দখল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। লোকসভা নির্বাচনের পর এই নিয়ে টানা তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জয় লাভ করল বিজেপি। আর দিল্লী জয়ের পরেই বাংলা দখলের কথা শোনা যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের মুখে। বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান থেকে শুরু করে বঙ্গ বিজেপিতে শুভেন্দুর গলাতেও একই সুর। তবে বরাবরের মতো এবারেও এই নিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব তৃণমূল সুপ্রিমোর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলার কমান্ড থাকছে তৃণমূলের হাতেই। সোমবার শুরু হলো বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন। তার আগে বিধানসভা ভবনে পরিষদীয় দলের বৈঠক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের কর্তৃত্ব মমতার হাতেই
এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন, দলের রাশ তাঁর হাতেই রয়েছে। বিধায়কদের তিনি বলেন, “তৃণমূলের ছাত্র যুব যাবতীয় শাখা সংগঠন এবং ব্লক কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু করুন।” অরূপ বিশ্বাসের কাছে তিনটি করে নামের তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দেন তিনি এবং সেই তালিকা জমা পড়লে তবেই কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর পাশাপাশি, কোন্দল ভুলে দলের সবাইকে একজোট হয়ে কাজের বার্তাও দিয়েছেন দলনেত্রী।
মদন উদয়নকে সতর্ক করলেন মমতা
দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় বক্তব্য রাখার জন্য দলের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে বলে আজ পরিষদীয় দলের বৈঠকে মদন মিত্র এবং উদয়ন গুহকে তিরস্কার করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীর, মদন মিত্র, নারায়ণ গোস্বামী ও উদয়ন গুহ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য় করে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। নাম না করে তাঁদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, যারা ভারপ্রাপ্ত তারাই একমাত্র প্রেসের সামনে কথা বলবে। বারবার ভুল করলে ছাড়া যায় না। বারবার ক্ষমা করা যায় না। সম্প্রতি মদন মিত্র আইপ্যাকের কঠোর সমালোচনা করেন একেবারে প্রকাশ্যে। সেখানে তিনি দাবি করেন, টাকা পয়সা নিয়ে আইপ্যাক প্রার্থী নির্বাচন করেছে। মদনের ওই মন্তব্যর পরপরই হইচই পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এনিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই ক্ষমা চেয়ে নেন মদন মিত্র। সূত্রের খবর, এনিয়ে মমতা বলেন, একবার ভুল করলে ক্ষমা চাওয়া যায়। বারবার ভুল করলে ক্ষমা করা যায় না। মদন ভুল করেছিল। ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে। বৈঠকে ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেনের জনসংযোগের প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, ধমক দেন বিধায়ক নরেন চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূল নেত্রী বলেন, আপানাদের দলীয় কোন্দলে কান পাতা দায়। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া মেটান।

জ্যোতিপ্রিয়র পাশে মমতা
কয়েকদিন আগেই রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আজ পরিষদীয় দলের বৈঠকে বারে বারে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রশংসা করেন মমতা। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “বালুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি ইডি। তাই ও জামিন পেয়েছে। রাজনৈতিক কারণে ওকে আড়াই বছর জেলে আটকে রাখল।”
প্রসঙ্গত, বাংলায় তৃণমূল সরকার গঠনের পর থেকেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন বালু। উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা সভাপতি থাকার পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে একুশের বিধানসভা ভোটের পর তাঁর দায়িত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়। জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বালুকে।