সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা ৬ ভারতীয় নাগরিককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি-সহ মোট ৬ জনকে অবিলম্বে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সামিরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপি-র ভুয়ো প্রচারকে জনসমক্ষে এনে দিলেন। বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী খাতুন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজনকে (শিশুসহ) ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ বলে চালানোর যে চেষ্টা তারা করেছিল, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এফআরআরও দিল্লির আটক/নির্বাসন আদেশ বেআইনি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে এই পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি কোনওদিন ভুলব না, যখন আমি এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম — তখন কিভাবে বিজেপির দালালরা আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নীচু, ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছিল। এটি শুধু আমাদের জয় নয়; এটি বাংলার জয় — বিজেপির বাঙালি-বিরোধী, গরিব-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এক তীব্র জবাব। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, যতদিন না এই বিষাক্ত, জনগণ-বিরোধী শক্তিগুলিকে গণতান্ত্রিক পথে পরাজিত করা যায়।’
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুনে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি পুলিশ বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা সোনালি বিবি, তাঁর স্বামী দানিশ এবং আট বছরের ছেলেকে আটক করে। এরপর বাংলায় কথা বলার অভিযোগে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের। তাঁদের বেআইনিভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। সেই সময় সোনালি বিবি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরই সে দেশের পুলিশ তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। বিষয়টি সামনে আসে যখন সোনালির বাবা ভদু শেখ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে জুন মাস থেকে তিনি কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি এবং বীরভূমের পাইকার থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ মামলাটির শুনানির আগে আইন অনুযায়ী এই বিষয়ের নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন৷ এদিকে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী রঘু চক্রবর্তী বলেন, ‘বীরভূমের পাইকরে সোনালির বাবার চাষের জমি রয়েছে৷ বসত বাড়ি রয়েছে৷ জমির কাগজপত্র রয়েছে৷ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি রয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘তাঁদের (সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার) ধরার পর তাঁরা নিজেদের ভারতীয় বলে আবেদনই করেননি ৷ তাঁরা যে ভারতীয়, তার সমর্থনে কোনও তথ্যপ্রমাণ নথি দেননি৷ তাহলে কেন এখন কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাসের মামলা হচ্ছে? দিল্লি হাইকোর্ট থেকে হেবিয়াস করপাস ও ডিপোর্টেশন দু’টি মামলাই প্রত্যাহার করা হয়৷’ এএসজি-র কথায়, ‘মামলা করতে হলে বিচারের এক্তিয়ার অনুযায়ী দিল্লি বা গুয়াহাটি হাইকোর্টে করতে পারেন৷ কলকাতা হাইকোর্টে কোনওভাবে এই মামলা করা যায় না৷ এখানে মামলার কোনও আইনি এক্তিয়ার নেই৷ তাহলে কি আদালত এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে? মামলাকারীরা কেন 26 জুন থেকে এতদিন চুপচাপ ছিলেন?’
তাঁর প্রশ্ন, ‘তাঁরা যে বাংলাদেশি নন, এই বক্তব্য জানিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে কি যোগাযোগ করা হয়েছিল ? বাংলাদেশ সরকারের তরফেও এদেশের সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।’