প্রিয়াঙ্কা মান্না | কলকাতা সারাদিন
“হার্ট অ্যাটাক”—এই শব্দটিই যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য। কিন্তু ভাবুন তো, আপনি যদি বাড়িতে একা থাকেন, আর ঠিক সেই সময় বুক ধড়ফড়, চোখে অন্ধকার, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়? তখন কী করবেন? প্যানিক করলে কিন্তু বিপদ আরও বাড়বে। তাই এখনই জেনে রাখুন কীভাবে একা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে পারেন।
১. বসে পড়ুন বা শুয়ে পড়ুন
বুকে চাপের মতো ব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা, ঘাম, চোখে ঝাপসা দেখা—এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে না থেকে বসে পড়ুন বা শুয়ে পড়ুন। চেষ্টা করুন মাথা ও বুক সমান উচ্চতায় রাখতে। খুব ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন—নাক দিয়ে টেনে, মুখ দিয়ে ছাড়ুন।
২. জরুরি ওষুধ কী খাওয়া যেতে পারে?
যদি হাতের কাছে থাকে, জিভের নিচে দিন সারবিট্রেট জাতীয় ওষুধ (যেমন Sorbitrate)। পাশাপাশি চিবিয়ে খান ৩২৫ মিলিগ্রামের অ্যাসপিরিন। এটি রক্ত পাতলা করে, রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। তবে এগুলোর ডোজ আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে জেনে রাখা জরুরি।
৩. ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
আঁটসাঁট পোশাক শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতে পারে। গলা বা বুকে টাইট জামা থাকলে তা খুলে দিন বা ঢিলে জামা পরে নিন। হালকা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
৪. কিছু খাবেন না, জলও নয়
এই মুহূর্তে কিছু খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। শ্বাসনালিতে খাবার বা জল আটকে গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। ওষুধের প্রয়োজন হলে খুব অল্প জল দিয়ে নিন, বা অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খান।
৫. নিজেকে সিপিআর দেওয়া?
অনেকেই বলেন “কাফ সিপিআর”—অর্থাৎ জোরে কাশি দিয়ে হার্টকে সচল রাখার চেষ্টা। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনো একে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করেনি। ভুল পদ্ধতি বিপদ বাড়াতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো উপায়, ফোন করুন ১০২ বা ১০৮-এ বা কাছাকাছি হাসপাতালের এমারজেন্সি নম্বরে।
৬. আতঙ্কিত হবেন না, সাহায্য চান
হার্ট অ্যাটাকের সময়ে মন শান্ত রাখা সবচেয়ে জরুরি। আতঙ্ক শরীরের উপর আরও চাপ ফেলে। যদি আপনি একা থাকেন, দ্রুত পরিচিত কাউকে ফোন করুন, দরজার লক খুলে দিন, এবং নিজেকে সোজা জায়গায় রাখুন।
হার্ট অ্যাটাক কখন হবে, তা কেউ বলতে পারে না। তবে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ জানা থাকলে জীবন বাঁচানো সম্ভব। মনে রাখবেন—বুদ্ধি, সচেতনতা এবং ধৈর্যই এই মুহূর্তে আপনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।