সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।
‘অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে সর্বনাশা এসআইআর প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপে প্রাণ গিয়েছে পরিবারের রোজগেরে মানুষের। তার উত্তর কমিশনকেই দিতে হবে।’ এমন দাবিসহ স্লোগান তুলে আজ কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন রাজ্যজুড়ে এসআইআরের চাপে মৃত বুথ লেভেল অফিসারদের পরিবারবর্গরা। শনিবার নির্বাচন কমিশন দফতরের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন মুর্শিদাবাদের মৃত বিএলও-র পরিবার। তাঁদের দাবি, বন্ধ করতে হবে এসআইআর প্রক্রিয়া। শনিবার সেই বিক্ষোভের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
শুধুমাত্র বাংলা নয়, গোটা দেশে প্রায় প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর-এর চাপে মারা যাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা। ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত নানা সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। কিন্তু ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় গিয়ে গভীর সমস্যায় বিএলও-রা। কমিশনের অর্ধপরিকল্পিত অ্যাপ ও সার্ভারের কারণে বিপদের মুখে বিএলও-রা। তার কারণে কাজের চাপেই একের পর এক বিএলও-রা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। সেই রকমই মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের জাকির হোসেন। তাঁর পরিবার শনিবার কমিশন দফতরের বাইরে ধর্নায় বসে। রাজ্যে বিএলও-দের সংগঠন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি মৃত জাকির হোসেনের পরিবারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন দফতরে পৌঁছন শনিবার। কিন্তু সেই সময় সিইও নিজের দফতরে না থাকায় তাঁরা বাইরে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই সময় সিইও বিপরীত দিকে বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের দফতরে বৈঠকে ছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে কমিশন দফতরে ঢুকতেও বাধা পান তিনি বিক্ষোভের জেরে। এরপর সিইও নিজের দফতরে গেলে সেখানে স্মারকলিপি জমা দিতে যান বিক্ষোভকারীরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন বিক্ষোভকারী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে রয়েছি, বহুবার অনুরোধেও কাজ হয়নি। সিইও-র সঙ্গে দেখা না করে আমরা এখান থেকে উঠছি না। যে বিএলও-রা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের লোকজন এসেছেন। উনি কেন দেখা করবেন না? তিনি কি ভিআইপি হয়ে গিয়েছেন?’ আন্দোলনকারীরা ডেপুটেশন জমা দিতে চাইলেও পুলিশ তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয়। আরেকজন বিএলও বলেন, ‘আমাদের ভিতরে না যেতে দিলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
অন্যদিকে প্রায় প্রত্যেকদিন এই ধরনের লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সিইও দফতরের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমঝোতা করতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন৷ আর তাই সম্পূর্ণ নিরাপদ জায়গায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরটিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কমিশন। এমনই নির্দেশ এসেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে।

একই সঙ্গে, কলকাতা পুলিশকেও নিরাপত্তার বিষয়টি আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে কমিশন৷ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফেয়ারলি প্লেসের বর্তমান সিইও দফতর এবং ভবিষ্যতের নতুন সিইও দফতরের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ সুনিশ্চিত করতে হবে৷ সুরক্ষা বলয় আরও আঁটোসাঁটো করতে হবে।