সুমন তরফদার ‌ কলকাতা সারাদিন।

 

খারিজ হচ্ছে না মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ।‌ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপরের স্থগিতাদেশ জারি করে জানিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার উপরে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু সেই বছরের জুন মাসেই ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে সংস্রব ত্যাগ করে তৃণমূলে চলে আসেন তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন মুকুল। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মুকুল রায়ের বিধায়ক পথ খারিজের জন্য স্পিকারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুকুল রায়ের দলবদলের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৭ জুন স্পিকারের কাছে তাঁর অযোগ্যতা চেয়ে একটি আবেদন জমা পড়ে। তবে স্পিকার ২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তা খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় বিচারের নির্দেশ দেয়। তবে স্পিকার পুনরায় নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। স্পিকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ স্পিকারের নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে 2021 সালের জুন মাস থেকেই মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ বলে ঘোষণা করে। হাইকোর্ট ঘোষণা করে, ২০২১ সালের ১১ জুন থেকে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল এবং ১৯৮৬ সালের নিয়ম অনুসারে মুকুল রায়কে অযোগ্য ঘোষণা করা হল। শুভেন্দু অধিকারী ও অম্বিকা রায়ের জমা দেওয়া প্রমাণ অনুযায়ী স্পিকারের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী ছিল।

 

সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ

 

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ কে চ্যালেন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়। মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টের কাছে যে ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করেছিলেন সেই ভিডিওর সত্যতা সঠিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা বিচার করেননি বলে আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ আজ জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের এই রায় আপাতত স্থগিত থাকবে এবং আবেদনের ভিত্তিতে নোটিশও জারি করা হয়েছে। মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশুর আইনজীবী প্রীতিকা দ্বিবেদী সুপ্রিম কোর্টে জানান, প্রবীণ এই নেতা অসুস্থ। হাইকোর্ট বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করে তার সংকীর্ণ বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। স্পিকার দলত্যাগের আবেদন খারিজ করেছিলেন কারণ মুকুলের কথিত দলবদল বিষয়ক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো প্রমাণ আইনের ৬৫বি ধারা অনুযায়ী যাচাই করা হয়নি। হাইকোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। যদি তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকেন, তবে পরিবারের সদস্য কেন আবেদন জানাতে পারবেন না? শুভেন্দু অধিকারীর জমা দেওয়া ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, এই ভিডিওটি যে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে বানানোর নয় তা কি কলকাতা হাইকোর্ট যাচাই করে দেখেছিল? এআই দ্বারা তৈরি ভিডিওর উপস্থিতির কারণে ইলেক্ট্রনিক প্রমাণ যাচাই হওয়া আবশ্যক।

ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে আইনজীবী গৌরব আগরওয়াল স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করে বলেন, তিনি প্রাথমিকভাবেই দলবদল প্রমাণ করতে পারেন। তবে বিধানসভার মেয়াদ আর কয়েকমাস পরই শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে বেঞ্চ রায় স্থগিত রাখে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সেই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যদি তিনি আবার বিধায়ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তখন আপনারা আবেদন করবেন। তখন কী করতে হবে, আমরা দেখব। এই মুহূর্তে উনি গুরুতর অসুস্থ তাই বিধায়ক পদে থাকলে তার চিকিৎসার জন্য সুবিধা পেতে পারেন। মানবিকভাবে বিচার ব্যবস্থা এই বিষয়টি দেখতেই পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *