সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন “Play is the highest form of research.” অর্থাৎ “খেলাই হলো শেখার সর্বোচ্চ রূপ।”
সোনারপুরের ইংরেজি মাধ্যম CBSE স্কুল জ্যোতি শিশু বিহার–এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রীতিমতো উৎসবের আবহে অনুষ্ঠিত হলো সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া বলাকা মাঠে।
সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ছিল রঙিন টেডি বিয়ার, ব্যানার আর শিশুদের কোলাহলে ভরা এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। অভিভাবক, শিক্ষিকাদের ও পড়ুয়াদের মিলিত উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণ ছিল প্লে গ্রুপের খুদে পড়ুয়াদের জন্য আয়োজিত নানা মজার স্পোর্টস ইভেন্ট। ছোট ছোট বাচ্চারা কখনো দৌড়ে, আবার কখনো হাসি-খুশির মধ্যেই অংশ নেয় বিভিন্ন খেলায়। তাদের উচ্ছ্বাস, হাততালি আর নির্ভেজাল আনন্দে ভরে ওঠে গোটা মাঠ। অনেক অভিভাবকের কাছেই এই মুহূর্ত ছিল আবেগঘন—নিজের সন্তানের প্রথম ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেখার আনন্দই আলাদা।

প্রাইমারি সেকশনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছিল তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট। ‘কাপ অন দ্য স্পুন রান’ থেকে শুরু করে দৌড়, ভারসাম্য রক্ষা ও দলগত খেলায় নিজেদের দক্ষতা দেখায় পড়ুয়ারা।

প্রতিটি খেলাতেই চোখে পড়ে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং স্পোর্টসম্যানশিপের চমৎকার দৃষ্টান্ত। শিক্ষিকারা প্রতিটি ইভেন্টে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করেন, আর গ্যালারিতে বসে থাকা অভিভাবকদের করতালিতে আরও প্রাণ পায় প্রতিযোগিতা।

এদিনের প্রতিযোগিতায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে বিশ্ব মঞ্চে বাংলা তথা ভারতের মুখ উজ্জ্বল করা বিশিষ্ট ক্যারাটেকার শিহান প্রকাশ থাপার তত্বাবধানে স্কুলের ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারাটের কৌশল প্রদর্শন, যোগ ব্যায়ামের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন কৌশল এবং ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য ড্রিল।

তবে ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন ইভেন্টের শেষে স্কুলের শিক্ষিকাদের স্পোর্টস ইভেন্টে অংশ নেওয়া এদিন সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের হেড মিস্ট্রেস সিলকা সালোনি বিসওয়াল, যিনি তাঁর বক্তব্যে পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তোলে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল সুশান্ত দাস, যিনি এই ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
অনুষ্ঠানে জ্যোতির্ময় পাবলিক স্কুলের তরফে উপস্থিত ছিলেন অস্মিতা মৃধা, অমরজিত গাঙ্গুলী-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
পুরো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা জুড়ে ছিল শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা, আনন্দঘন পরিবেশ এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা। দিনের শেষে পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি ও সার্টিফিকেট। তবে শুধু বিজয়ীরাই নয়—প্রতিটি অংশগ্রহণকারীই ছিল এই দিনের আসল নায়ক।
প্রসঙ্গত এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তথা বাংলা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. পার্থ সারথী গাঙ্গুলি প্রতিমুহূর্তে তার ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।

সব মিলিয়ে, জ্যোতি শিশু বিহারের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রমাণ করে দিল, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়—এ এক আনন্দ, শেখার সুযোগ এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যা শিশুদের মনে থেকে যাবে।