শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
এখনই বিদেশ যেতে পারবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাওয়ার আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আদালতের কাছ থেকে এখনই কোনো তাত্ক্ষণিক স্বস্তি মিলল না তাঁর।
সোমবার হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তৃণমূল সাংসদের এই আবেদনের কোনও জরুরি শুনানি এখনই সম্ভব নয়। নির্ধারিত নিয়ম এবং সময়সূচি অনুযায়ী আগামী জুলাই মাসেই এই মামলার শুনানি হবে।
জানা গেছে, চোখের বিশেষ চিকিৎসার জন্য সাত দিনের বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন এই তৃণমূল নেতা। গত বুধবার এই সংক্রান্ত মূল আবেদনটি জমা পড়েছিল। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তখনই মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, চিকিৎসার সুবিধা দেশেই রয়েছে এবং মামলাটি স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া তাঁর বিদেশযাত্রার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে, আইনি জট না কাটলে তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চোখের সমস্যার সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মুর্শিদাবাদে একটি দলীয় কর্মসূচি সেরে কলকাতায় ফেরার পথে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ চোখের নিচে গুরুতর চোট লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়। প্রথমে দেশের একাধিক নামী হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও, পরবর্তীতে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে হয়েছিল। সেই পুরনো ও জটিল সমস্যার ফলো-আপ চিকিৎসার কারণেই তিনি আবার বিদেশে যেতে চাইছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচন-উত্তর পটপরিবর্তন এবং তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপশি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই-ইডি) থেকে শুরু করে রাজ্যের অন্যান্য সংস্থাও একাধিক মামলায় তাঁকে তলব করছে।

সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের তরফে কলকাতা হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়। তবে আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আর্জি সাফ খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, মামলাটি আদালতের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানির জন্য উঠবে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেও অভিষেকের পক্ষ থেকে ঠিক একই আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেবারও আদালত জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনতে সম্পূর্ণ রাজি হয়নি। আজ আবারও একই ধাক্কা খাওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিদেশ যাত্রা আপাতত বিশ বাঁও জলে বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।