কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
‘যদি গোটা রাজ্যের সনাতনীরা এগিয়ে আসে তাহলে ২০০ নয়, ২২০ আসনে জিতব।’ এভাবেই শনিবার নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে আরো একবার আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২২০ আসনে জয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই মালদহের চাঁচলে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা হুংকার দিয়েছিলেন, ‘আমরা যদি ৩ আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?’
চাঁচলের জনসভা থেকে শুভেন্দু হুঁশিয়ারির সুরে দাবি করেছিলেন, এপ্রিল মাসের পর রাজ্যের বিরোধী দল হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে হিসেব হবে।
শুক্রবারের জনসভা থেকে রাজ্যের পুলিশের একাংশের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল – সব নাম লেখা রয়েছে, সবার হিসেব বাকি। শনিবারও ব্যতিক্রম ঘটাননি শুভেন্দু। পুলিশকে গুন্ডাদের সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেন, গুন্ডাদের জায়গায় পুলিশকে দিয়ে অত্যাচার করাচ্ছে রাজ্য সরকার। তিনি মনে করান, কিছু গুন্ডাকে তিনি দেড় বছর জেল খাটিয়েছেন, এখন তাই তারা চাপে। তবে অপেক্ষা করছে এপ্রিল মাসের পর আবার তাণ্ডব করবে। কিন্তু তা তিনি হতে দেবেন না।
বাংলাদেশের ঘটনাও উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর কথায়। বলেন, হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে কী হবে তা ওপার বাংলাকে দেখলেই বোঝা যায়। তাঁর দাবি, একসময়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ ছিল, এখন ৭ শতাংশে ঠেকেছে। দীপু চন্দ্র দাসের খুনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রামের মানুষকে সতর্ক করে এও বলেন – এক না হলে এখানকার জামাত মানসিকতার কিছু গুন্ডা একইভাবে অত্যাচার করবে। তাঁর কথায়, ‘এখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম। তাই চাপ থাকে এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই।’ এই প্রসঙ্গে অতীতের কিছু খুনের ঘটনার কথা বলেন শুভেন্দু আরও বলেন, হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে অত্যাচার আরও বাড়বে, খুনেও ঘটনাও। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে সকলকে এক হতে হবে।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত সপ্তাহেই ঘোষণা করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের আদলে নন্দীগ্রামেও চলবে সেবাশ্রয় শিবির। অভিষেকের ঘোষণার পরেই বাড়তি তৎপরতা দেখা গেল বিজেপি শিবিরে। সেবাশ্রয়ের পালটা হিসাবে সেবাদান কর্মসূচি শুভেন্দু অধিকারীর। তবে এই কর্মসূচি পদ্ম শিবিরের ব্যানারে নয়! মহাপ্রভু সেবা সমিতি আয়োজিত মহাপ্রভুর মহোৎসব উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য শিবির করালেন শুভেন্দু অধিকারী।

জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারে সংস্থা এই স্বাস্থ্য শিবির করে। তাঁদের দাবি, অভিষেকের পালটা নয়। তাঁরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই শিবির করছেন। আঞ্চলিক মহাপ্রভু সেবা সমিতি আয়োজিত মহাপ্রভুর মহোৎসব উপলক্ষ্যে নন্দীগ্রামের দাউদপুরে সেবাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ওষুধ দেওয়া বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্য শিবিরের পাশাপাশি করা হয় ভোগ বিতরণ। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।