পুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্যান্ডেল সাজানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এই আবহেই বর্ধমানের প্রতিভাবান শিল্পী সিদ্ধার্থ পাল এবং তাঁর স্ত্রী তন্দ্রা পাল-এর হাতে তৈরি দুর্গা প্রতিমা কানাডার অন্টারিও-তে পাড়ি দিল। বিদেশের মাটিতে এই প্রতিমা পৌঁছে যাবে আরও কয়েক দিনের মধ্যেই, আর সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় বাঙালি সম্প্রদায় উপভোগ করবেন তাদের প্রিয় উৎসবের আবহ।
ফাইবার গ্লাসের বিশেষ প্রতিমা
প্রায় ২০-২৫ দিন নিরলস পরিশ্রম করে তৈরি হয়েছে এই প্রতিমা। ওজন মাত্র আড়াই কেজি হলেও শিল্পকর্মটি অত্যন্ত নিখুঁত।
প্রতিমার দৈর্ঘ্য: প্রায় ২০ ইঞ্চি
প্রস্থ: ৩০ ইঞ্চি
গঠন: ফাইবার গ্লাস, ৪-৬ মিলিমিটার পুরু
প্রথমে মাটির মূর্তি তৈরি করা হয়, তারপর সেটি প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে ছাঁচ বানিয়ে তাতে ফাইবার গ্লাস ঢেলে চূড়ান্ত প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে।
কানাডায় কীভাবে গেল এই শিল্পকর্ম?
সিদ্ধার্থবাবু জানিয়েছেন, নদিয়ার শান্তিপুরে তাঁর এক আত্মীয় কানাডায় পোশাক রফতানি করেন। সেই সূত্র ধরেই অর্ডার মেলে। রবিবার প্রতিমাটি বিশেষভাবে প্যাকিং করে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আনুমানিক ১০ দিনের মধ্যে কানাডায় পৌঁছে যাবে এই অনন্য শিল্পকর্ম।
শিল্পীর প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্গা প্রতিমা
যদিও সিদ্ধার্থ পাল অতীতে বিদেশে অন্য প্রতিমা পাঠিয়েছেন—
১৫ বছর আগে আমেরিকায় শিব প্রতিমা
৫-৬ বছর আগে নরওয়েতে লক্ষ্মী ও সরস্বতী
তবে দুর্গা প্রতিমা বিদেশে পাঠানো তাঁর জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই এই অর্ডার তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের।

দুর্গাপুজো ২০২৫-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
মহালয়া: ২১শে সেপ্টেম্বর (রবিবার)
পঞ্চমী: ২৭শে সেপ্টেম্বর (শনিবার)
অষ্টমী: ৩০শে সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)
দশমী: ২রা অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)
এই বছরও বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশে জমজমাট আয়োজন হবে। আর সেই আবহেই বর্ধমানের শিল্পীর প্রতিমা কানাডার বাঙালিদের পুজোয় এনে দেবে বিশেষ মাত্রা।

বাংলার শিল্পীর হাতের যাদু বিদেশে
বাংলার মৃৎশিল্প বহুদিন ধরেই বিদেশে জনপ্রিয়। দুর্গাপুজো শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গেই নয়, এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হয়। কানাডা, আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যেও বাঙালিরা প্রতিমা নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রাজ্যের শিল্পীদের হাতে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বর্ধমানের সিদ্ধার্থ পালের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল, Durga Puja শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক বার্তা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।