সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বছর ঘুরলেই বাংলার পাশাপাশি দেশের আরও চার রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই পাঁচ রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ তামিলনাড়ু এবং কেরালা তিন রাজ্যেই রয়েছে বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক দল। আর প্রত্যেকটিতেই গত কয়েক বছর ধরে বারে বারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধ বেধেছে রাজ্যপাল এবং রাজভবনের ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার বনাম রাজ্যপালের ক্ষমতা নিয়ে টানা পোড়েনের মাঝেই এবারের রীতিমতো মাস্টার স্ট্রোক দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ ভবনের নাম বদলে দিলেন লোক ভবন।
আজ থেকে রাজভবনের নাম হল লোকভবন৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নাম বদল করা হল বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস৷ রাজ্যপাল জানিয়েছেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলেই রাজভবনের নাম বদলে লোকভবন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷ এ দিন কলকাতার রাজভবনের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করা হল৷ রাজ্যপাল এ দিন নিজে হাতেই রাজভবন লেখা বিভিন্ন ফলক সরিয়ে লোক ভবন লেখা ফলক লাগিয়ে দেন৷ রাজ্যপাল জানিয়েছেন, যেহেতু রাজ ভবনের মূল উদ্দেশ্যই সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা, তাই রাজ ভবনের নাম বদল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই সাময়িক ভাবে রাজ ভবনকে ‘জন রাজভবন’ নাম দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস৷ তাঁর আমলেই রাজ ভবনে সাধারণ মানুষের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এবার রাজভবনের নামই বদলে গেল৷ রাজ্যপাল দপ্তরের তরফে প্রকাশিত এক ভিডিয়োয় দেখা যায়, ভবনের নামফলক থেকে ‘রাজ’ শব্দটি খুলে ফেলে তার জায়গায় ‘লোক’ বসাচ্ছেন রাজ্যপাল নিজেই। ঐতিহাসিক নাম পরিবর্তনের এই দৃশ্য ঘিরে দপ্তরের আধিকারিক, কর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রের নির্দেশে বাংলা প্রথম প্রয়োগ করল নতুন নাম, গত ২৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশজুড়ে সব রাজভবনের নাম ‘লোকভবন’ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম পদক্ষেপ করল বলে রাজভবন সূত্রে দাবি।
রাজ্যপালের কথায়, ‘জরুরি পরিস্থিতিতে, তা রাজনৈতিক হিংসা হোক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজভবন সব সময় মানুষের পাশে থেকেছে। লোকভবন নামটি সেই মানবিক দায়িত্ববোধকেই আরও জোরদার করে।’ ভিডিয়োর শুরুতেই দেখা যায়, রাজ্যপাল প্রথমে রাজভবনের ভিতরে থাকা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবির সামনে প্রণাম করছেন। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর অশোকস্তম্ভের নীচে থাকা নামফলক থেকে ‘রাজভবন কলকাতা’ লেখা সরিয়ে ‘লোকভবন কলকাতা’ বসিয়ে দেন রাজ্যপাল বোস।

এ দিন রাজ ভবনের নাম বদলের পরই রাজ্যপাল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে যান৷ সেখানে শিশুদের লজেন্স বিলির পর সাধারণ মানুষকে রাজ ভবনের নাম বদল সম্পর্কে জানান রাজ্যপাল৷ এর পর রাজ ভবনে ফিরে এসে রাজ ভবনের নতুন নাম লোক ভবনের নামের ফলক উদ্বোধন করেন তিনি৷