শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
“আমি কর্তাদের বলছিলামন টিমটা ভালো করতে হবে। ফলাফল ভুলে যান কিন্তু টিমটা তো ভালো করতে হবে, আমার একটা অভিযোগ আছে আপনারা টিমটা ভালো করে করুন। ভালো ফুটবলার নিন। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদেরও গলদ আছে। ওরা না জানালে ইমামি জানবে কী করে। আগে একটা চারা গাছকে ঘিরে রাখতে হয়।” এভাবেই বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইস্ট বেঙ্গল কর্তাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইএসএলের মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছে মোহনবাগান এসজি। চলতি মরশুমে সবুজ মেরুন একইসঙ্গে লিগ শিল্ড ও আইএসএল কাপ জিতেছে। কিন্তু আইএসএলের শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স তলানিতে। এমনকি প্রথমবার আইএসলএলে খেলতে নেমে হতাশাজনক ফলাফল করেছে মহমেডান। বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের তথ্যচিত্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। আর্থিক পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। ৫০ লক্ষ্য টাকার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। এদিন ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের তথ্যচিত্রের উদ্বোধন করা হয়। এই তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন বিখ্যাত পরিচালক গৌতম ঘোষ। বাংলার বর্ষীয়ান এই পরিচালক গৌতম ঘোষ ১৬টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। গৌতম ঘোষ বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পেরোতে হয়েছে। খেলার ফুটেজ পাওয়া কঠিন হয়। বাকি গুলো হার্ড ডিক্সে দেওয়া হয়েছে ক্লাবকে। একটা ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে।
এই মঞ্চ থেকেই কীভাবে লাল হলুদ আগামীদিনে সাফল্য পেতে পারে সেই উপায় বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাব-ইনভেস্টরদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে আগামী দিনে যে ইমামি ও ক্লাব কর্তাদের একজোট হয়ে কাজ করতে হবে রবীন্দ্র সদন থেকে নরমে গরমে সেই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী নিজের বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “ডাউন মেমোরি লেনকে ধরে রাখতে হবে. যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেখানো যায়। আইএসএলে তিন ক্লাব খেলছে। মোহনবাগানকে শুভেচ্ছা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। ইস্টবেঙ্গবলের যখন সমস্যা চলছিল ইমামি এগিয়ে আসে। মোহনবাগানের কোনও কিছুর অভাব নেই। সঞ্জীব গোয়েঙ্কা আছেন। মহমেডানও নিজের মতো খেলছে আইএসএলে। বাংলার তিন ক্লাবই আইএসএলে খেলছে।”
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বাংলার খেলাধুলাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার কাজ করেছে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সব ক্লাবকেই ৮ ,১০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আমি যখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলাম তখন থেকেই অ্যাকাডেমি তৈরির জোর দিয়েছিলাম।”

এরপর মঞ্চে থাকা সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়কে একটু অ্যাকাডেমি তৈরির পরামর্শ দিয়ে মমতা বলেন, “সৌরভের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে আমি স্নেহাশিসকে বলব ডুমুরজলায় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি করে নাও। ওটা নিয়ে কেস হয়েছে স্টেডিয়াম করা যাবে না। জটিলতা না করে অ্যাকাডেমি তৈরি করে নাও। রাজারহাটে একটা জমি আছে। ফুটবল স্টেডিয়াম হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তিন বছর পরও সেটা হয়নি। যখন হল না ক্রিকেটই হোক।”