সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
ভাঙড়ে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক তৃণমূল কর্মী। ধৃত তৃণমূল কর্মীর নাম আজাহার উদ্দিন মোল্লা। এছাড়াও আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃত আজহারউদ্দিন আগে আইএসএফ করলেও, গত বছরের জুলাই মাসেই আসমা বিবি এবং আজহারউদ্দিন মোল্লা শওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেয়।
রবিবার গভীর রাতে পোলেরহাট থানার একটি আবাসন থেকে আজহারউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে উত্তর কাশিপুর থানার পুলিশ। রাজ্জাক খান খুনের ঘটনায় এর আগেই তৃণমূল নেতা মোফাজ্জেল মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরেই আজহারউদ্দিন মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার আজহারউদ্দিন মোল্লাকে বারুইপুর আদালতে তোলে পুলিশ।
তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। আজহারউদ্দিন মোল্লা আইএসএফ-এ থাকাকালীন বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণ হওয়ায় গুরুতর আহত হয়েছিল। আহত অবস্থায় তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল আজহারউদ্দিন। তিনি পানাপুকুড় এলাকায় জয়ী পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
আজাহার ছাড়া আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম জাহান আলি খান ও রাজু মোল্লা। এদের রাজনৈতিক পরিচয় কি, তাও জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত দশটার পর পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে ভাঙ্গড়ের উত্তর কাশীপুর থানার চালতাবেরড়িয়ার অঞ্চল সভাপতি তৃনমূল নেতা রজ্জাক খাঁ-কে দুষ্কৃতিরা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এর আগে মোফাজ্জল মোল্লাকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে, কুড়ি তারিখ পর্যন্ত তাঁর পুলিশ হেফাজত হয়।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভাঙড়ে খুন হন তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খাঁ। নির্জন এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে।
রাজ্জাক খাঁ ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের কাজ করছিলেন তিনি। তৃণমূলের অঞ্চল স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন রাজ্জাক। স্থানীয়দের দাবি ছিল, তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তাই তাঁকে ‘টার্গেট’ বানিয়েছে। ফলে পরিকল্পিত খুন বলেই দাবি তৃণমূল কর্মীদের একাংশের।