রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন। 

বাংলার পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামীণ রাস্তায় বড় গাড়ি ঢুকলেই স্থানীয় থানার পুলিশের মাইনে কাটা যাবে! সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পানীয় জলের পাইপ ভাঙা থেকে রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে সোমবারের বৈঠকে কড়া বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট কথা, বেআইনি কার্যকলাপ হলে সেই বিভাগের হেড থেকে হেড ক্লার্ক কেউ ছাড় পাবে না।

পথশ্রী প্রকল্পে ১০ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বার বার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র টাকা দেয়নি। রাজ্যের নিজের তহবিল থেকে সেই রাস্তা তৈরি হয়েছে। তার পরেও সেই পথঘাটের বেহাল দশা বলে অভিযোগ উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এনিয়ে এদিনের বৈঠকে থেকে মন্ত্রী, সচিব, জেলাশাসকদের সঙ্গে কড়া বার্তা দিলেন মমতা।

অভিযোগ, গ্রামীণ রাস্তায় বড় গাড়ি ঢুকছে। ফলে রাস্তা ভাঙছে। বেহাল দশা হচ্ছে। আর এই ঘটনা ঘটছে নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের একাংশের সাহায্যে, এমনই অভিযোগ।

যদিও মমতা এর আগে বহুবার এমন নির্দেশ দিলেও, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ব্লকের সোনারপুর ২ গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভারী মাটি, ইঁট বা বালি বোঝাই লরি এবং ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়নি। তার ফলে ভাঙছে রাস্তা। কিন্তু স্থানীয় পঞ্চায়েতের আধিকারিক ও এলাকার তৃনমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে রমরমিয়ে চলছে বেআইনিভাবে ভারি গাড়ি চলাচল।

 

যা নিয়ে এদিন মমতার নিদান, গ্রামীণ রাস্তায় বড় গাড়ি ঢুকবে না। শুধুমাত্র সার, মাছ ও দুধের গাড়িকে ছাড় দেওয়া হবে। তার পরেও যদি গ্রামীণ রাস্তায় ভারী গাড়ি ঢোকে, তাহলে পুলিশের মাইনে কাটা যাবে। কোনও রাজনৈতিক নেতার গাড়ি হলেও ছাড়া হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও পর্যবেক্ষণ, শুধু বড় গাড়ির জন্য নয়, অনেক ক্ষেত্রে জলের পাইপ বসানোর সময় রাস্তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। টেলি কমিউনিকেশন বিভাগের কাজ চলাকালীনও রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। মমতার দাবি, কোনও বিভাগের কাজের জন্য রাস্তা ভাঙা হলে তা সারিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। যা দেখে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, দুই বিভাগের মধ্যে সম্বন্বয় নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *