শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“ভাতাটা কীসের জন্য? টাকাটা আসবে কোথা থেকে? কতদিন তিনি ভাতা দেবেন?” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো ২০১৬ সালের গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি শিক্ষা কর্মীদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাতা ঘোষণা করেছেন, তার যৌক্তিকতা নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভাতাটা কীসের জন্য? তারা তো চাকরি পেয়েছেন, ৩০-৩৫ বছর বয়সে চাকরি পেয়েছেন, অবসরের বয়স পর্যন্ত ততদিন কী ভাতা দেওয়া হবে? নাকি মমতা বন্দোপাধ্যায় যতদিন থাকবে ততদিন ভাতা দেওয়া হবে? যারা যোগ্যচাকরি প্রার্থী, তারা কী দোষ করলেন? তাদের কেন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি দের ভাতা দেওয়া হলে শিক্ষকরা কি দোষ করল তাদের কেন ভাতা নয়?”
শনিবার নবান্নের বৈঠক থেকেই চাকরিহারা একদা এই রাজ্য সরকারি কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের মাসিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গতকাল নবান্নের সভা ঘরে চাকরিহারাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে গ্রুপ সি-দের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি-দের জন্য ২০ হাজার টাকা ভাতা ঘোষণা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
এর পাশাপাশি, বীরভূমে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সারা বাংলায় হিংসার পরিবেশ শুরু হয়ে গিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। যারা সমাজবিরোধী তাদের মনে কোন ভয় নেই। সরকার নিজেকে বাঁচতে ব্যস্ত। তাহলে সমাজকে কে বাঁচাবে? রাজ্যের চারিদিকে গুলি চলছে। সবই টিএমসির ঝাণ্ডার তলায়। শুধু বীরভূম নয়, জেলায় জেলায় একই ছবি। এটাও তারা বুঝে গেছে সরকারও বেশীদিন নেই। কারোর উপর সরকারের কোন কন্ট্রোলও নেই। যতটা পারা যায় লুটেপুটে নাও। কামিয়ে নাও যতদিন চলে। ওয়াকফ বোর্ডের নাম করে যে ধরণের লুটপাট চলছে সেটা বন্ধ করা দরকার, সেই লক্ষ্যেই আনা হয়েছে ওয়াকফ আইন।”
এখন দেশে বড় ইস্যু হয়ে গিয়েছে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড। তার বদলা কি নেওয়া হবে? দেশবাসীর এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পাঁচটি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়েছে ভারত সরকার। তাতে আবার হুমকি উড়ে এসেছে পাকিস্তান থেকেই। প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “সিন্ধু আমাদের। এখানে হয় জল বইবে নয়তো ভারতীয়দের রক্ত।” জবাবে আজ দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “রক্ত তো পাকিস্তানে বইছে। কখনও আল-কায়দা হামলা করছে, কখনও আফগানিস্তান হামলা করছে। আমরাও যে মারতে পাড়ি, তার কিছু উদাহরণ দিয়ে দিয়েছি। এই ধরনের কথা বলা ওদের পুরনো স্বভাব।”

তাহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা কেমন করে হবে? দেশের মানুষের কাছে এটাই এখন বড় প্রশ্ন। যে নির্মমভাবে হত্যালীলা সংগঠিত করা হয়েছে তার প্রতিশোধ এখন সকলেই চাইছেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, “যে দেশ বেয়াড়া হয় তাদের টাইট দেওয়ার বেশ কিছু রাস্তা আছে। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা। তাদেরকে ভাতে মারা। কেউ যুদ্ধ চাইছে না। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ এরকম হলে বিপদ তো থাকবেই। তাদের ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিতে হবে। ওদের সঙ্গে কে বসতে চায়? কারা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সময় নষ্ট করবে। সিমলা চুক্তি কারা লঙ্ঘন করেছে। ওসব সময় পার হয়ে গিয়েছে। এবার অ্যাকশনের সময়।”