বারুইপুরের পর কড়া বার্তা বিজেপির, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শমীক-দিলীপের মন্তব্য
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার দিনই জানিয়ে দিয়েছিলেন নারী সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যের বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতির মামলায় অসংখ্য দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পুলিশকে অনুপ্রাণিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি এনকাউন্টারে অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যুর পরে তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হলেও শুভেন্দু সরকারের এই নীতির প্রতি রাজ্য বিজেপি তথা বিজেপি নেতৃত্বের যে সম্পূর্ণ সহমত রয়েছে তা আরো একবার স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুলিশমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেবেন। তবে অপরাধীকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। খুন, ধর্ষণ যে করেছে তাকে পাতাল থেকে খুঁজে বের করা হবে। অপরাধীদের স্থান হবে হয় জেলের ভিতরে কিংবা আকাশের উপরে।’
রাজ্যসভাপতির পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ইস্যুতে পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বৃহস্পতিবার সকালে বারুইপুর এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘নকশাল আমলে অতীতে এনকাউন্টার হত। আমরা এনকাউন্টার করতে চাই না। কিন্তু বিহার, উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমজনতাকে শান্তি দিয়েছে। তখন এখানে তৃণমূল সরকার ছিল। যারা অন্য রাজ্যের এনকাউন্টারের বিরোধিতা চালিয়ে গেছে। তারা দুষ্কৃতীদের মাথায় তুলে রেখেছিল। তাই আজ বাংলার এই অবস্থা। বাংলার পুলিশ চাইলে সব পারে। আমরা সেটাই ভুলতে বসেছিলাম। পুলিস হিম্মত ফিরে পেয়েছে। মানুষের আশা আকাঙ্খা অগ্রাধিকার দিয়েছে। অপরাধে আমরা জিরো টলারেন্স। অপরাধী ধরা এবং পালানোর চেষ্টা করায় নিকেশ করতে দ্বিধা করেনি। অপরাধ দমনে পুলিসের হাত আর কাঁপবে না। সরকার আর পিছিয়ে যাবে না এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে স্পটে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হয়। বিরোধীরা ওখানে ফটো তুলতে গেছে। আর সরকার কাজ করে দেখিয়েছে।’

বারুইপুরের অন্যতম অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে বিরোধীরা সাজানো এনকাউন্টার বলে যে অভিযোগ তুলেছে তার প্রেক্ষিতে দিলীপের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এরা বুদ্ধিজীবীর নামে সমাজবিরোধী। এদের নিজের ইমেজ আর নাম ছাড়া কিচ্ছু চায় না। যখন অপরাধ হয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আবার অপরাধী সাজা পেলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন। ডিম এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙুন। এদের বুঝিয়ে দিন। অপরাধী এবং অপরাধের পাশে দাঁড়ানো এইসব মানুষকে সমান ট্রিটমেন্ট দিন। আর কী কী দেখাব? আর কী কী ওরা দেখতে চায়? ছোটবেলায় একটা গান শুনতাম, একবার দেখাব নাকি! সেই গান ওরা শুনতে চাইছেন? সবকিছুর একটা শেষ থাকে। ন্যাকামোর শেষ নেই ওদের। মাঠের মধ্যে একনকাউন্টার হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি থাকবে? ভিডিওগ্রাফি থাকবে? অপরাধী সাজা পেয়েছে তাতে ওরা খুশি নয়। কী চাইছেন, অপরাধীদের বাঁচিয়ে রেখে ট্রায়ালের পর ট্রায়াল চলবে? এই সুযোগ ওদের দেব না।’

অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন এবং বারুইপুরে এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার প্রেক্ষিতে দিলীপ বলেন, ‘মাননীয়া একজনকে থাপ্পড় মারলেন। ওনার তার কেটে গেছে। এতদিন কয়েকটা তার কাটা ছিল। কাল দেখলাম সব তার কেটে গেছে। ক্ষমতায় থেকে চোখ রাঙানো যায়। বিরোধী থেকে ধৈর্য ধরতে হয়। শুধু ড্রামা করলে হয় না। এতদিন ড্রামা করেছেন। আপনি লড়াই করুন। আমরাও তো লড়াই করেছি। আমাদের রাস্তায় আটকেছেন। গাড়ি ভেঙেছেন। খেলা হবে গান মাইকে বা ডিজে দিয়ে বাজিয়েছেন। সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না। কাল আমাদের ছেলেরা একটু গান টান বাজিয়েছে। নাচ টাচ করেছে। জিতেছি আমরা একটু নাচব না? তোমার বাড়ির বিছানায় গিয়ে তো নাচিনি। যদি প্রয়োজন হয় সেটাও করব। উনি চিরকাল এরকম। বাড়ির লোকেদের ধমকেছেন। থানার ওসিকে বিডিও দের চমকেছেন। লুঠ যারা করেছে তাদের প্রমোশন দিয়েছেন। সিপিএম আমলে তার কর্মীদের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল উনি তাদেরকে পাশে টেনে নিয়েছেন। যাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে তিনি নাকি সন্তানতুল্য। দাবি কুণাল ঘোষের। কুণাল ঘোষের ভাষণ শুনে আর ডায়লগ শুনে আজ তৃণমূলের এই দুরবস্থা। কুণাল ঘোষ শকুনির ভূমিকায় অভিনয় করে গেছেন। কুরু বংশ কে শেষ করেছেন কুণাল ঘোষ।’