‘অর্থ দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে’ তারাতলা কান্ডে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘অর্থ দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবে সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে। অতীতের প্রশাসনিক ও কর্পোরেশনের ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ তারাতলার বেআইনি গোডাউন বিপর্যয় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এভাবেই আগামী দিনে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তারাতলা কাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চেক তুলে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাদের পাশে থাকারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তার ব্যবস্থা করবে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গার্ডেনরিচ থেকে তারাতলা— এই ধরনের ঘটনা আগের তৃণমূল সরকার এবং সেই আমলে কলকাতা পুুরসভার ভুলত্রুটির জন্যই ঘটছে।
ভবিষ্যতে যাতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সব রকমের পদক্ষেপ করবে সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘ঘটনার আধ ঘণ্টার মধ্যে দমকল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তার পরের ২ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। আমরা ১৭ জনকে বাঁচাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে আপনাদের মুক্তি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
Amit Shah : ‘আগামী ৫ বছরে শুভেন্দুর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়বে পশ্চিমবঙ্গ’ ঘোষণা অমিত শাহের
অর্থসাহায্য মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হতে পারে না, সে কথা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা তা করব। আহতদের ভবিষ্যতে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়তে পারে। তা নজরে রেখে আমরাই ওষুধপত্র দেব আপনাদের। মৃতদের বাড়ির ছেলেমেয়েদেরও যাতে ভবিষ্যতে পড়াশোনা না আটকায়, তার কথাও ভাববে সরকার।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয়ে উদ্ধার কাজের জন্য সিভিল ডিফেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে উন্নত করা হচ্ছে। যন্ত্রপাতি কেনার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে।
নবান্নের বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কাছে প্রত্যাশা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তার প্রেক্ষিতে তারাতলা কাণ্ডে মৃত এক যুবকের স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মাথার ছাদ তো চলে গিয়েছে। আমার ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। আমায় যদি কোনও কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়…।’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রম দপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আর কী কী ভাবে সাহায্য করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা মাসে মাসে কিছু হেল্প করতে পারব। শ্রম দপ্তর পারবে। মুখ্যসচিবই সে কথা জানালেন আমাকে।’ এই কাজের দায়িত্ব রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্থানীয় পুরসভায় মৃতদের পরিবারের কোনও এক সদস্যকে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। এছাড়াও, দশম শ্রেণি পাশ কোনও উপযুক্ত সদস্য থাকলে কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরির সুযোগ মিলবে। এ জন্য কলকাতা পুরসভার কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একটি প্রস্তাব তৈরি করে মুখ্যসচিবের মাধ্যমে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারগুলিকে মাসিক আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই বৈঠকের উদ্দেশ্য দোষারোপ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।’