সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনো ঘোষণা করেনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেই বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে দলবদল এবং ভোটের দিকে তাকিয়ে দলে যোগদানের প্রক্রিয়া। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের এই কৃতী অ্যাথলিটের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবও সেই সময় উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে স্বপ্না বর্মন জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ও একেবারে সাধারণ স্তর থেকে উঠে আসার গল্প আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই আমি দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাজ্যের মন্ত্রী তথা অভিনেতা ও নাট্যকার ব্রাত্য বসু স্বপ্নাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা তাঁকে আমাদের দলে স্বাগত জানাই। আজ আমার ‘চক দে’ এবং ‘দঙ্গল’ চলচ্চিত্র দুটির কথা মনে পড়ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ওই ছবিগুলি ছিল কাল্পনিক, কিন্তু স্বপ্নার সাফল্য বাস্তব। ব্রাত্য বসু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা বলতে চাই, ‘চক দে স্বপ্না’।’
২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পাশাপাশি ২০১৭ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে হেপ্টাথলনে প্রথম স্থান অধিকার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন স্বপ্না। স্বপ্না বর্মনের রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। গত জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি সফরে গিয়ে ‘মহাকাল মহাতীর্থ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানেই স্বপ্নাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঞ্চে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতা নজর কেড়েছিল রাজনৈতিক মহলের। তখন থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অ্যাথলিট এবার রাজনীতির ট্র্যাকে নামতে চলেছেন। জলপাইগুড়ির কোনও আসন থেকে স্বপ্নাকে প্রার্থী করা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এমনকী তিনি জিতলে তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রীড়া মন্ত্রকের দায়িত্বও দিতে পারে বলে চর্চা রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী পরিবারের সন্তান স্বপ্নার যোগদান আসন্ন নির্বাচনে ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় শাসকদলের পালে বাড়তি হাওয়া দেবে।