সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় যে বিস্ফোরণ হয়েছে তাতে অনেকের প্রাণ গিয়েছে। ওই ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। যারা পরিবারের মানুষদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। কিন্তু খুবই খারাপ লাগার বিষয় হল বিস্ফোরণ ঘটেছে খোদ রাজধানী দিল্লিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় পড়ে দিল্লি পুলিস। ফলে এই বিস্ফোরণের দায় দিল্লি পুলিস বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেই নিতে হবে। এরকম নিরাপত্তায় গাফিলতি কীভাবে হতে পারে।’ এভাবেই রাজধানী দিল্লিতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপরে দায় চাপিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা থাকার পরেও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে রাজধানী। গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ৯ জন। কোথাও বিপুল বিস্ফোরক তো কোথাও অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার হচ্ছে। এনিয়ে অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মহুয়া মৈত্ররা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘শুধু তাই নয় গতকাল সকালে হরিয়ানার পরিদাবাদ থেকে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ও একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি ঘটনার কথা ধরলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিজরদারির উপরে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এনিয়ে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করে সময় নিয়ে এসবের তদন্ত করা উচিত। যারা এই বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা উচিত।’

এর আগেই পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের সময়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককেই দায়ী করেছিলেন অভিষেক। কেন ভারত এখনও পিওকে দখল করে নিচ্ছে না, সে প্রশ্নও তুলেছিলেন। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর একটি পোস্ট করেই দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক। এবারের ঘটনার আবারও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘কেন বা আমাদের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার এইভাবে পতন ঘটছে? দেশের সুরক্ষা কেন প্রশ্নের মুখে, এর জবাব কে দেবে? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন ভুটান!’ মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক একযোগে প্রশ্ন তুললেন, ‘দেশের রাজধানীতেই যদি বিস্ফোরণ ঘটে, তাহলে দেশের মানুষ কোথায় নিরাপদ?’ শশী পাঁজার বক্তব্য, ‘আমরা সবাই শকড। ভারতের রাজধানীতে এই ঘটনা ঘটেছে! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশে সিট গঠন করে তদন্ত হোক। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নিজেই বলতে না পারেন এটা টেররিস্ট অ্যাটাক কিনা, তাহলে জনগণ কাকে বিশ্বাস করবে?’

তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নির্ধারণ করতে না পারেন, কারা এই হামলা ঘটিয়েছে, তাহলে দেশবাসী কাকে ভরসা করবে? এটা কি বিজেপির আমলে প্রথম? গুরুদাসপুর, উধমপুর, পাঠানকোট, পুলওয়ামা, পহেলগাঁও— একের পর এক হামলা, আর সরকারের মুখে অজুহাত! বিজেপি সরকার কি চাইছে, এই ঘটনাগুলো বারবার ঘটুক? নাহলে এমন নিরাপত্তা ব্যর্থতা কীভাবে হয়? পার্লামেন্টে হামলার সময়ও বিজেপির সরকার ছিল। অপারেশনের নাম দিয়েছিলেন ‘অপারেশন সিঁদুর’, কিন্তু সেই সিঁদুর রক্ষা করতে পারলেন না।’