শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
মিঠুন চক্রবর্তীর আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিজের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা খারিজের আবদার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নব্য ভাজপা নেতা মিঠুন। আপাতত কলকাতা পুলিশকে মিঠুনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না করার জন্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলেও মামলা খারিজ করলেন না কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নির্দিষ্ট ধারায় যেহেতু অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাই তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা এবং মিঠুন চক্রবর্তীকে সেই তদন্তে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
জানা গিয়েছে, মিঠুন চক্রবর্তীর প্রাক্তন সচিব সুমন রায় চৌধুরী অভিযোগ জানান, বিমান সরকার অর্থাৎ মিঠুন চক্রবর্তীর আইনজীবী এবং মিঠুন চক্রবর্তী দুজনে তাকে একটি হোটেলে ইন্টেরিয়র ডেকরেশনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই কাজ যখন চলছিল তখন প্রথম দফায় পারিশ্রমিক তিনি পেয়ে যান। কিন্তু দ্বিতীয় দফার কাজের সময় অতিরিক্ত কাজ করতে চাপ দেওয়া হয়। সেই কাজ শেষ করতে গিয়ে তাঁকে নিজের স্ত্রী-র গয়না বন্ধক রাখতে হয়। বাজার থেকে চরা সুদে অর্থ যোগাড় করে তবে তাকে সেই বাকি কাজ শেষ করতে হয়। কিন্তু সেই কাজ শেষ হওয়ার পর আর বাকি অর্থ দিচ্ছেন না মিঠুন চক্রবর্তী। এই বাবদ তাঁর পাওনা ৩৫ লক্ষ টাকা।
কিন্তু সেই টাকা আজও না পাওয়ায় তিনি বারংবার মিঠুন চক্রবর্তীর দ্বারস্থ হন। এমনকি তাঁর স্ত্রী সেই টাকা চাইতে গেলে অপমানিত হন। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে স্বামী স্ত্রী মিলে চিৎপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভাজপা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং তাঁর আইনজীবীর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলা রুজু করে কলকাতা পুলিশ। সেই মামলা ফরিদ করার আবদার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন মিঠুন। কিন্তু মিঠুনের সেই আবদার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান তদন্ত প্রক্রিয়া যে এমন চলছে তেমনভাবেই চলবে।
তবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিঠুনকে আপাতত গ্রেফতার করার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না কলকাতা পুলিশ। তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত জানাবে হাইকোর্ট।