সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘অগণতান্ত্রিক উপায়ে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে যথেষ্ট সময় দিয়ে সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক।’ এমন দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে মামলা দায়ের করল তৃণমূল।
তৃণমূলের রাজ্য সভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে ১০১ পৃষ্ঠার পিটিশন। নির্বাচন কমিশনের কারণে এসআইআর প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। জীবিত ব্যক্তিদের মৃত বলে দেখানো হচ্ছে। এই অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই গঙ্গাসাগর সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত নয়। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের গণহারে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক নাগরিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ১০১ পাতার আবেদনে তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিএলও-দের নির্দেশ দিচ্ছে। যা অবৈধ। এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ জানানোর যে দিন নির্ধারিত হয়ে আছে, তার মেয়াদ বাড়ানো উচিত। রাজ্যের ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর নামে অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া আরও সময় নিয়ে সম্পন্ন করা উচিত ছিল এই দাবি করে তৃণমূলের আবেদন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের যেন না করা হয়।

ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া একগুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃতীয় বার চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার গঙ্গাসাগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে তিনিও সওয়াল করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামী কাল (মঙ্গলবার) কোর্ট খুলবে। আমরাও আদালতে যাব। এত মানুষের মৃত্যু, এত মানুষকে যে ভাবে হেনস্থা করছে, তার বিরুদ্ধে আদালতে যাব।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন পড়লে নিজেও অনুমতি চাইব। দরকার হলে আমিও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে প্লিড করব। মানুষের হয়ে কথা বলব। আমি আইনজীবী। কিন্তু আইনজীবী হয়ে যাব না। সাধারণ নাগরিক হিসাবে যাব। আমি আমার কথা বলতেই পারি। কথা বলার অনুমতি নেব। চোখে আঙুল দিয়ে দেখাব, তৃণমূল স্তরে কী চলছে, কী ভাবে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।’