শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
“২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন ভুল স্বীকার না করলে নতুন তথ্য সামনে আনব।” এভাবেই রাজধানী দিল্লিতে বসে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ভুতুড়ে ভোটার প্রসঙ্গে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল।
বাংলার কয়েক লক্ষ বাসিন্দার একই এপিক নম্বরে পাওয়া গিয়েছে দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন অভিযোগের পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দিলেও কারচুপির অভিযোগে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, কীর্তি আজাদ এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁদের অভিযোগ, এটা কেলেঙ্কারি। লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ সোমবার বেশ কিছু সচিত্র পরিচয়পত্রের একটি তালিকা তুলে ধরেন। সেই তালিকায় দেখা গিয়েছে, একই এপিক নম্বর লেখা অনেকগুলি ভোটার আইকার্ড রয়েছে। ডেরেকদের দাবি, এই ভোটার আইকার্ডগুলির বেশির ভাগই বিজেপি- শাসিত রাজ্যের বাসিন্দাদের।
এই সমস্ত তথ্য প্রমাণ সামনে এনে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগসাজসের অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ভুল স্বীকার করে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কমিশনকে সময়ও বেঁধে দিলেন তৃণমূল সাংসদ প্রতিনিধি দল।
সোমবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ভিনরাজ্য থেকে ভোটার আনতেই এই একই এপিক নম্বরের ভোটার কার্ড। তিনি বলেন, “এখনও ভুল স্বীকার করেনি নির্বাচন কমিশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভুল স্বীকার করুক নির্বাচন কমিশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন ভুল স্বীকার না করলে নতুন তথ্য সামনে আনব।” মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে নতুন প্রকাশ করা হবে বলে জানালেন তিনি। একইসঙ্গে ১০০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেন ডেরেক।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সাগরিকা ঘোষ বলেন, “বাংলার একজন ভোটারের ভোটার কার্ডের যে এপিক নম্বর, অন্য রাজ্যের এক ভোটারের সেই একই এপিক নম্বর। গাড়ির লাইসেন্স কি ডুপ্লিকেট হয়? হয় না। আধার কার্ডের নম্বর ডুপ্লিকেট হয়? হয় না। তাহলে এপিক নম্বর কি করে ডুপ্লিকেট হয়? আমরা বলছি, এটা একটা কেলেঙ্কারি। এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ। যদি প্রয়োজন হয় আমরা নাম দেব। বিজেপি থেকে কোন কোন লোক নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই অপরাধ করছে। প্রয়োজন পড়লে আমরা তাদের নাম দেব।”
ডেরেক বলেন, ”আমরা চাই, পশ্চিমবঙ্গে কেবল সেখানকার বাসিন্দারাই ভোট দিক। দেখা যাবে, ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ, তাঁদের ভোট অন্য কেউ দিয়ে গিয়েছেন, যাঁদের ভোটার আইডি কার্ডের এপিক নম্বর তাঁদেরই মতো।” ডেরেক আরও জানান যে, সে ক্ষেত্রে অন্য রাজ্য থেকে ভোটারেরা এসে ভোট দিয়ে যাবে। এটা কিছুতেই মানা যায় না।
একই এপিক নম্বরে দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড নিয়ে রবিবার বিবৃতি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, দুটি রাজ্যে দু’জন আলাদা আলাদা ভোটারের একই এপিক আলফা নিউমারিক নম্বরের ভোটার কার্ড থাকে, তাঁরা কোনওভাবেই ভুয়ো ভোটার নয়। তবে ইউনিক এপিক নম্বরের চেষ্টা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজধানী দিল্লির এই কনস্টিটিউশন ক্লাবেই রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন। মহারাষ্ট্র নির্বাচনের আগে কীভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটার যুক্ত করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে ভোটার লিস্টে ভুতুড়ে ভোটার ঢোকানোর বিষয়ে তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই নিয়ে বিস্তৃত জানিয়েছে। ভোটারদের এপিক নম্বর ইউনিক নম্বর নয়। প্যান কার্ড, আধার কার্ডের ক্ষেত্রে ইউনিক নম্বর হয়। গোটা দেশে একজনের প্যান কার্ড কিংবা আধার কার্ডের নম্বর একটাই হবে। অন্য কারও সেই নম্বর হবে না। কিন্তু, এপিক নম্বর ইউনিক নয়। একেকটি রাজ্যের যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রয়েছেন, তিনি এপিক নম্বরের সিরিজ নির্ধারণ করেন। ফলে এপিক নম্বর এক হয়ে যেতে পারে।” তিনি জানান, শুধু এপিক নম্বর এক হলেই তাতে চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু, এর সঙ্গে যদি ভোটারের নির্দিষ্ট বিধানসভা ক্ষেত্র ও নির্দিষ্ট বুথ মিলে যায়, তাহলে তা চিন্তার।
উল্টে তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলায় নাম, বাবার নাম, বয়স ও ভোটকেন্দ্রের মিল রয়েছে, এমন ১৭ লক্ষ ভোটার রয়েছে। তাদের নাম আমরা নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছি।”