শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
এই দুর্নীতির ৮০ শতাংশ টাকা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে। মমতার হাত ধরেই শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যত বেসরকারিকরণ চলছে এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি দাগি অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করার পরেই এভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের উচিত সংবিধান মেনে কাজ করা। কোনও নির্বাচিত সরকার অবৈধভাবে চাকরি দিতে পারে না। এত দিন আমরা দাবি করেছিলাম মমতা সরকার চাকরি চুরি করেছে। আজ সুপ্রিম নির্দেশের পর গোটা দেশ দেখেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুর্নীতি করেছেন। যদি ১৮০৪ জন দাগি প্রার্থী হয়ে থাকেন তাহলে এই সরকার মহাদাগি সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ১৪০০ জন প্রার্থীর অ্যাডমিট বাতিল হওয়ার বিষয়ের উল্লেখ করে শুভেন্দু অভিযোগ, এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। জীবনকৃষ্ণ সাহার মতো অনেকেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেকের এজেন্ট হয়ে কাজ করতেন। শাসক দল নিজেই স্বীকার করেছে তারা চাকরি চোর। এই দুর্নীতির সম্পূর্ণ দায় মুখ্যমন্ত্রীর। প্রকাশিত তালিকাও অসম্পূর্ণ—সেখানে প্রার্থীদের ঠিকানা, সাবজেক্ট ও ক্যাটাগরির উল্লেখ নেই। এখানেও সরকারের অস্বচ্ছতা স্পষ্ট।
এসএসসি-র প্রকাশ করা তালিকাকে ভোগাস বলে কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসসি নিয়ে আইনি জটিলতাকে চালিয়ে যেতে চান। ১৮০৪ জনের নাম প্রকাশ করেছে। এটা অসম্পূর্ণ তালিকা৷ এই সংখ্যাটা ৬ হাজারের বেশি৷ ২০২২ সালের নির্দেশে যা উল্লেখ করেছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়৷ রাজ্য সরকার স্বীকার করে নিল ১৮০৪ জনের চাকরি অবৈধভাবে তারা দিয়েছে৷ স্বাধীনতার পর দেশে এমন নজির নেই৷ এমন কি, ত্রিপুরাতেও বামফ্রন্ট সরকার অবৈধভাবে চাকরি দেওয়ার কথা স্বীকার করেনি৷ প্রমাণিত হল সরকার বেআইনি কাজ করেছে৷ এটা কোনও নির্বাচিত সরকার করতে পারে না৷ বাংলার যুবক- যুবতীদের কাছে কথা দিতে পারি বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে ১৮০৪ জন বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, বিজেপি সরকারে আসার পর তাঁদের নামে এফআইআর করে মন্ত্রী আমলা যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি দিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠিনতম ব্যবস্থা নেব। বিজেপিকে সরকারে আনুন। আমি কথা দিচ্ছি আট মাস বাদে দেখে নেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তাঁর মন্ত্রীদের ভবিষ্যতের ঠিকানা জেল।
এদিকে নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন, কিছু দাগী চোর আর লুটেরাদের প্রাণপণ রক্ষা করতে ‘দাগী অযোগ্যদের’ তালিকায় সুকৌশলে আড়াল করা হয়েছে তাদের তথ্য! মাননীয়া ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ এসএসসি চাতুর্যের সঙ্গে চাপা দিতে চেয়েছে – কে কোথা থেকে পরীক্ষা দিয়েছে, কোন জেলার বাসিন্দা সবকিছুই। এটার নেপথ্যে উদ্দেশ্য একটাই, যাতে সংবাদমাধ্যম তো বটেই, প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরাও এই দাগীদের পরিচয় সহজে না জানতে পারে। এটা আসলে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গেই লুকোচুরি! প্রকৃত যোগ্যদের মেধা ও কষ্টার্জিত শিক্ষার সঙ্গে এমন বেইমানি করে আর কতদিন আড়াল করবেন মাননীয়া? যদি সত্যিই সৎ সাহস থেকে থাকে, তাহলে অবিলম্বে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করুন।