সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘ওদের হাতে থাকা প্রতিটি অস্ত্র, নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তর, কেন্দ্রীয় বাহিনী, অনুগত সংবাদমাধ্যম এমনকী বিচার বিভাগের কিছু অংশ ব্যবহার করার পরও বিজেপি জানে এই বাংলা তাদের পরাজিত করবে এবং ২০২১ সালের চেয়েও বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে ফের ক্ষমতায় আসবে।’ বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের সংঘাত শুরু হয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে তার মধ্যেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে বিএলওদের সাম্মানিক ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ইনসেনটিভ ১ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ২ হাজার। বিএলও সুপারভাইজারদের সাম্মানিক ১২ হাজার থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৮০০০ টাকা। দাবি করা হয়েছে ২০১৫ সালের পর প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাড়ানো হল বিএলওদের। যদিও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি ২ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থাৎ দেশব্যাপী এসআইআর ঘোষণার অনেক আগে। যা নতুন করে সামনে এনে রাজনৈতিক চমক তৈরির চেষ্টা চলছে বিজেপির তরফে।
শনিবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে এই ইস্যুতে সরব হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘বিজেপির প্রচারযন্ত্র এখন ৪ মাস পুরনো বিজ্ঞপ্তি সামনে এনে মিথ্যা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং নির্বাচন কমিশনকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনা একটি সত্যই প্রকাশ করে তা হল মিস্টার স্যার-এর কৌশল শুধু ব্যর্থই হয়নি, তা জনসাধারনের সামনে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।’ অভিষেক অভিযোগ করেছেন, কমিশন মিথ্যে কথা বলছে৷ অভিষেক লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে মিথ্যে দাবি করছে যে, তারা আজ তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত অভিযোগগুলির প্রত্যেকটিকে এক-এক করে খণ্ডন করেছে৷ এই দাবিগুলি কেবল বিভ্রান্তিকর নয়, এগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যে৷ যদি নির্বাচন কমিশনের সত্যিই লুকানোর কিছু না-থাকে এবং তারা প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করে, তাহলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফাঁসের আড়ালে লুকিয়ে থাকার পরিবর্তে, অবিলম্বে সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ এবং তাদের কাছে থাকা প্রতিটি প্রমাণ প্রকাশ করা উচিত।’

তবে শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ তোলার পর রবিবার বিবৃতি জারি করে তা উড়িয়ে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি শুক্রবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সামনে এই অভিযোগই করে নির্বাচন কমিশন। বিএলও-দের ভাতা বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরও সেই টাকা বরাদ্দ করেনি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কমিশনের তরফে বলা হয়, অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিএলও এবং ইআরও-দের বর্ধিত ভাতার টাকা মঞ্জুর করুক।২ অগাস্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, বিএলও-দের ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা ও বিএলও সুপারভাইজারদের ভাতা ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার করা হচ্ছে। এইআরও এবং ইআরও-দের সাম্মানিক ভাতা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।