শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এর আগে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পর এই প্রথম কোনও ক্ষমতাসীন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে অনুমতি দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের দফতর থেকে আজ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করা হয়েছে। রাজ্যপাল নিজে জানিয়েছেন, তিনি ইডি-র পেশ করা সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেছেন এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তার কথায়, “ইডি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওনার (চন্দ্রনাথ সিনহা) বাড়ি থেকে সঙ্গতিহীন অর্থ উদ্ধার করেছে। আমি সব নথি দেখে এবং আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়ার অনুমতি দিয়েছি।”
এর আগে একাধিকবার ইডি-র তলব এড়িয়েছিলেন চন্দ্রনাথ সিংহ। ৩১ জুলাই তাঁকে সম্পত্তির নথিসহ হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সময় চেয়ে নেন। চার্জশিট জমা পড়ার পর বৃহস্পতিবার হঠাৎই ইডি দফতরে যান তিনি। যদিও সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। চার্জশিট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, “আমি শুনেছি। বিষয়টি পুরোপুরি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” চার্জশিটে মন্ত্রীর হাজিরা এড়ানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৫ জুলাই এবং ২৮ জুলাই-ও ইডি তাঁকে তলব করেছিল, কিন্তু সেই সময়ও তিনি সাড়া দেননি। এই সমস্ত বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় বলাগড়ের বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই চন্দ্রনাথ সিংহের নাম সামনে আসে। কয়েক মাস আগে তাঁর বাড়ি থেকে ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে প্রায় দেড় কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য মেলে তদন্তকারীদের হাতে। দিন কয়েক আগে তাঁকে কলকাতার নিজাম প্যালেসে হাজিরার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এর পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় এবং রাজ্যপালের অনুমতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।

এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার শান্তিনিকেতনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তদন্ত হওয়া উচিত। রাজ্যপাল তো ছাড়পত্র দিয়েছেন। আপনারা তো চন্দ্রনাথকে চাঁদুদা বলে ডাকেন। চাঁদুদা এবার খেল দেখবেন। খেলা তো এখনও দেখেননি। শুধু চাঁদুদা নন, তৃণমূলের প্রচুর বিধায়ক, সাংসদরা যারা টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছেন। পাপের রোজগার অত সহজে হজম করা যায় না। যেটা খেয়েছেন সেটা বমি করতে হবে।”