সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
যুবসমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু আজকের দিনে তরুণ প্রজন্ম নানা অন্ধকার শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে—মাদকাসক্তি, অ্যালকোহল, সহিংসতা, অশ্লীলতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মতো বিপজ্জনক জালে আটকে পড়ছে অনেকেই। ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারে প্রলোভনের সংখ্যা বাড়ছে বহুগুণে। এই সময়ে প্রয়োজন সঠিক দিশা ও ইতিবাচক উদ্দীপনা।
কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবক ও মেথড অ্যাক্টিং-এর শিক্ষক ববি চক্রবর্তী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর অনন্য উদ্যোগ, “I Am the King of My Mind”, এক বিনামূল্যের বৈশ্বিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, যা কিশোরদের সঠিক জীবনদর্শন ও আসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বার্তা দেয়।
৪৬৯তম সেশনে ছাত্রছাত্রীদের উচ্ছ্বাস
২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ববি তাঁর ৪৬৯তম অ্যান্টি-অ্যাডিকশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করলেন বারাসতের Delhi World Public School-এ। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এই সেশনে অংশগ্রহণ করে। ববি তাঁদের “soldiers” বা “যোদ্ধা” বলে ডাকেন এবং নিজে থাকেন তাঁদের “commander Bobby Dada” হিসেবে।
এই ক্যাম্পেইনে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ, মনোযোগ, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং খোলা আলোচনায় প্রাণচাঞ্চল্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার
সবচেয়ে অংশগ্রহণকারী সৈনিক: ষষ্ঠ শ্রেণির যশস্বান ভৌমিক, যিনি তাঁর উত্তর ও আত্মবিশ্বাসে ববিকে চমকে দিয়েছেন।
আধিকারিক ফটোগ্রাফার: সপ্তম শ্রেণির রোহন রায়, যিনি নিষ্ঠার সঙ্গে অনুষ্ঠানটির মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। তাঁকে সহযোগিতা করে ‘ট্রেন্ডসেটার’ উপাধিপ্রাপ্ত সপ্তম শ্রেণির মৃন্ময় সাধু।
প্রথম সৈনিকের খেতাব: নবম শ্রেণির ঐশানী ঘোষ, যিনি সমাপনী প্রতিযোগিতায়ও বিজয়ী হন।
অন্যান্য বিজয়ী সৈনিক: অষ্টম শ্রেণির শ্রেয়া দে ও আদিত সরকার, যারা রোহনের সঙ্গে মিলে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে—কাস্টমাইজড সৈনিকদের টি-শার্ট এবং কমিউনিটি সার্ভিস সার্টিফিকেট।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
বিদ্যালয়ের প্রাণবন্ত অধ্যক্ষ শ্রদ্ধা আগরওয়াল এবং উদ্যোগী কো-অর্ডিনেটর মনিষা ভট্টাচার্য তাঁদের দক্ষ টিম নিয়ে অনুষ্ঠানটি নিখুঁতভাবে আয়োজন করেন। ববির সঙ্গে তাঁদের এই সহযোগিতা সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার যে প্রয়াস তাঁরা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।

ক্যাম্পেইনের মূল বার্তা
১. মাদক ও অ্যালকোহলের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা।
২. ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে peer policing বা সহপাঠীদের নজরদারি উৎসাহিত করা—যদি কেউ মাদক ব্যবহার করে তবে তা দ্রুত স্কুলের অ্যান্টি-ড্রাগ কমিটিকে জানানো।
৩. মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা।
৪. ছাত্রছাত্রীদের অ্যান্টি-ড্রাগ কার্যকলাপে যুক্ত করা এবং সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গড়ে তোলা।
৫. মাদক ব্যবহারের সূচনা রোধ করা এবং যারা ব্যবহার শুরু করেছে তাদের আসক্তি থেকে দূরে সরানো।
৬. স্কুল-কলেজের প্রাঙ্গণে মাদক ও মদের বিক্রয় পুরোপুরি বন্ধ করা।

বারাসতের দিল্লি ওয়ার্ল্ড পাবলিক স্কুলের এই ক্যাম্পেইন প্রমাণ করল যে সঠিক দিশা ও শক্তিশালী নেতৃত্ব পেলে যুবসমাজ আলোয় ফিরতে পারে। ববি চক্রবর্তীর ৪৬৯তম উদ্যোগ শুধুমাত্র এক দিনের অনুষ্ঠান নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রজন্মকে সচেতন করার আন্দোলন। আগামী দিনে তাঁর মতো আরও উদ্যোগ সমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ করে তুলবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।