শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“আগামীদিনে যাদবপুরের ভিতরে বিদ্যার্থী পরিষদ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করবে এবং সেটা খুব ভয়ঙ্কর। যে যেরকমভাবে, যে ভাষা, যে সংগঠন যে ভাষা বোঝে, আগামী দিনে বিদ্যার্থী পরিষদ তাকে সেই ভাষাতেই জবাব দেবে। এর জন্য তারা প্রস্তুত থাকুক।” শুভেন্দু অধিকারী সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষের পরে যাদবপুরে মাও মাকু ছাত্রদের বিরুদ্ধে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিল বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় পড়ুয়া জখম হওয়ার আগে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে হেনস্থার শিকার হন শিক্ষামন্ত্রীও। গোটা ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনকেও নিশানা করে আসছে বিজেপি ও এবিভিপি। সেই প্রসঙ্গে আগেই দিলীপ ঘোষের মুখে শোনা গিয়েছিল সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা। এবার একই হুঙ্কার দিতে শোনা গেল এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক অনিরুদ্ধ সরকার মুখেও। তাঁর অভিযোগ, “দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। আইপ্যাক-এর মদতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং এসএফআই-এর সেটিং চলছে। সম্পূর্ণভাবে এসএফআই-কে তুলে ধরে একটা মৃতপ্রায়, ভেসে যাওয়া চলে যাওয়া আদর্শকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। রাজ্যের মানুষ জানে।”
সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপি আরও বলে, জেএনইউতে কী অবস্থা ছিল দেখেছেন। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নেশার আসর বসাত বামপন্থী ছাত্র সংগঠন। এখন রাষ্ট্রবাদী ছাত্রদের সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে পড়ুয়ার মৃত্যুতেও এরাই জড়িত ছিল বলে দাবি এবিভিপির। যাদবপুরের মতোই পশ্চিমবঙ্গের বাকি কলেজ ক্যাম্পাসগুলির অবস্থা বলে দাবি তাদের। অন্য কোনও ছাত্র সংগঠনকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনকে তৃণমূল পেছন থেকে ব্যাকআপ দিচ্ছে বলে দাবি বিস্ফোরক অভিযোগ এবিভিপির।

আগামিদিনে যাদবপুরের ভিতরে বিদ্যার্থী পরিষদ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করবে বলে হুঙ্কার এবিভিপির। যারা যে ভাষায় বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি তাঁদের। এবিভিপির সদস্যরা আরও বলেন, “বাম তৃণমূল ভাই ভাই, তলে তলে ফিশফ্রাই। যাদবপুরের ঘটনা নির্বাচনকে সামনে করে একেবারে বাম তৃণমূলের বাইনারি তৈরির চেষ্টা। ব্রাত্য বসুর উপর হামলায় ১৭ জনের মধ্যে ১ জন গ্রেফতার হয়েছে। আর এবিভিপির কর্মসূচিতে ৫ জন গ্রেফতার। এতেই সবটা প্রমাণিত।”
তৃণমূল ও বামেরা যাদবপুরকে দেশবিরোধী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে বলে দাবি এবিভিপির। “নেশায় চুর, গাঁজায় চুর, যাদবপুর, যাদবপুর। মাদক গাঁজার চাষ চলছে। যে ভাষায় বোঝে, যাদবপুরকে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। যাদবপুরের মাটিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বামপন্থীদের হাতে থাকবে না। ১১ বছরে যাদবপুরের মাটিতে কিছু করল না কেন? ফিশফ্রাই সেটিং রয়েছে।”

প্রসঙ্গত গতকাল যাদবপুর প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “এরা ছাত্র নয় ‘মাকু’। যারা বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী’ তারা কি ছাত্র নাকি? এর জন্য দায়ী মমতা ব্যানার্জী। ২০১৯ সালের তৎকালীন ভারত সরকারের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এখন তৃণমূলের মন্ত্রী, তার ওপর যখন আক্রমণ হয় মমতা ব্যানার্জী বিজেপি বলে পুলিশকে আটকে রেখেছিল। তদানীন্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ২০২৩ সালে আমাকে যখন মাওবাদীরা আক্রমণ করে যাদবপুরের গেটে, পুলিশ গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছিল, তাদেরকে মমতা ব্যানার্জির রাত্রি বারোটার সময় ফোনে মুক্তি দেয়। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরি করেছ, বাঘের পিঠে চড়েছ, ভুগতে হবে। যারা জাতীয় পতাকা তোলে না, বন্দেমাতরম গায় না, জাতীয় সংগীত মানে না, সনাতন ধর্মের বিরোধিতা করে, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী বলে, টুকরো টুকরো গ্যাং, সব সমান। যারা সেকুলারিজমের কথা বলে তারা যেমন আর যারা মাওবাদীর কথা বলে, ভারতীয় সংবিধানকে মানে না, গোমতী থেকে গোদাবরী আলাদা দেশ চায় তারাও সমান।” পাশাপাশি, রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পঠন পাঠন গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি গাইডলাইন মেনে শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচি ছাড়া অন্য কাজ বন্ধ করে দেওয়া হোক। অবিলম্বে ছাত্র সংসদের এবং ওয়েব কুপার অফিসের তালা লাগানো হোক। ব্রাত্য বসু এবং সেকু মাকুদের ছাত্র সংগঠনের অফিসে তালা লাগানো উচিত। মাওবাদীদের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”