সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ডিসেম্বর এলেই বাতাসে ভেসে আসে কেকের মিষ্টি গন্ধ। বড়দিন যত এগিয়ে আসে, ততই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের উষ্ণতা। পাশ্চাত্যের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব আজ আর শুধু ইউরোপ বা আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাংলার প্রতিটি শহরেই বড়দিন এখন আনন্দ, আলো ও ভাগ করে নেওয়ার প্রতীক। সেই উৎসবেরই এক বিশেষ প্রস্তুতি হলো কেক মিক্সিং অনুষ্ঠান—যার মধ্য দিয়ে বড়দিনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়।
এ বছর সাত সমুদ্র পেরিয়ে সেই ঐতিহ্যবাহী কেক মিক্সিং উৎসবের রঙে রাঙল শিলিগুড়ি। শহরের তানিয়াস হোটেলে সম্প্রতি আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য কেক মিক্সিং অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিরা। হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেফ, আবাসিক অতিথি এবং শহরের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন। সকলেই একসঙ্গে মিলিত হয়ে বড়দিনের প্রস্তুতিতে অংশ নেন, তৈরি হয় উৎসবের প্রাণবন্ত পরিবেশ।
বড়দিনের আগে কেক তৈরির এই আচার শুধুই রান্নার প্রস্তুতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। ইতিহাসবিদদের মতে, সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ড ও পোল্যান্ডে কেক মিক্সিং উৎসবের সূচনা হয়। নানা রকম শুকনো ফল, বাদাম, টুটিফ্রুটি, কিশমিশ, খোবানি, চেরি, ডুমুর ও ক্র্যানবেরির সঙ্গে মেশানো হয় ওয়াইন, রাম, বিয়ার বা হুইস্কির মতো উপাদান। এই মিশ্রণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ দিন রেখে দেওয়া হয়, যাতে স্বাদ আরও গভীর হয়। বড়দিনের ঠিক আগে সেই মিশ্রণ থেকেই তৈরি হয় সুস্বাদু ফ্রুট কেক বা প্লাম কেক, যা ভাগ করে নেওয়াই এই উৎসবের মূল বার্তা।
তবে শিলিগুড়ির এই কেক মিক্সিং অনুষ্ঠানের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক ছিল পথশিশুদের উপস্থিতি। প্রথমবারের মতো চোখের সামনে এমন উৎসব দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুরা। তাদের হাসি, কৌতূহল আর আনন্দ পুরো অনুষ্ঠানকেই আলাদা মাত্রা এনে দেয়। শিশুদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে তারা এই উৎসবের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারে।
ইউনিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পথশিশুদের এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়, যাতে বড়দিনের আনন্দ শুধু চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গীতিকা পাল বলেন, “বড়দিন মানে শুধু উৎসব নয়, একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। পথশিশুরাও সমাজেরই অংশ—এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি। শিশুদের মুখের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির এই কেক মিক্সিং অনুষ্ঠান শুধু বড়দিনের প্রস্তুতি নয়, বরং মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। যেখানে উৎসব মানে কেবল আলো আর কেক নয়, বরং ভালোবাসা আর ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতি।