ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • Firhad Kolkata Waterlogging : ৪০ বছর পরে ভয়াবহ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি কলকাতায়, বাস ট্রেন মেট্রো বিপর্যস্ত হয়ে স্তব্ধ কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির জনজীবন

Firhad Kolkata Waterlogging : ৪০ বছর পরে ভয়াবহ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি কলকাতায়, বাস ট্রেন মেট্রো বিপর্যস্ত হয়ে স্তব্ধ কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির জনজীবন

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।   ১৯৮৬ সালের পরে ২০২৫ সাল। প্রায় চার দশক পরে ফের প্রকৃতির রোষানলে কলকাতা। দেবীপক্ষে অসুররূপী নাগাড়ে বৃষ্টিতে শহর কলকাতা সহ লাগোয়া জেলাগুলিতে রীতিমতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি। গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় কলকাতার বিস্তীর্ণ প্রান্ত।....

Firhad Kolkata Waterlogging : ৪০ বছর পরে ভয়াবহ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি কলকাতায়, বাস ট্রেন মেট্রো বিপর্যস্ত হয়ে স্তব্ধ কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির জনজীবন

  • Home /
  • কলকাতা /
  • Firhad Kolkata Waterlogging : ৪০ বছর পরে ভয়াবহ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি কলকাতায়, বাস ট্রেন মেট্রো বিপর্যস্ত হয়ে স্তব্ধ কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির জনজীবন

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।   ১৯৮৬ সালের পরে ২০২৫ সাল। প্রায় চার দশক পরে ফের প্রকৃতির....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

 

১৯৮৬ সালের পরে ২০২৫ সাল। প্রায় চার দশক পরে ফের প্রকৃতির রোষানলে কলকাতা। দেবীপক্ষে অসুররূপী নাগাড়ে বৃষ্টিতে শহর কলকাতা সহ লাগোয়া জেলাগুলিতে রীতিমতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি। গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে জলের তলায় কলকাতার বিস্তীর্ণ প্রান্ত। কলকাতার অলি-গলিতে জল ঢুকেছে। এই জমা জলেই ওঁত পেতেছিল বিপদ। জমা জলে বিদ্যুতের তারে তড়িদাহত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রের দাবি।

এক রাতের মধ্যে মাত্র পাঁচ ঘন্টায় কলকাতায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেল প্রায় ৩০০ মিলিমিটার। যার ফলে স্তব্ধ হয়ে গেল কলকাতা। থমকে গেল ইতিমধ্যেই খুলে যাওয়া পূজো মন্ডপের ঠাকুর দেখতে যাওয়ার ভিড়। থমকে গেল পুজোর কেনাকাটা। থমকে গেল বাস ট্রাম মেট্রো অটো এবং লোকাল ট্রেন পরিষেবা।

জানা গিয়েছে, গত প্রায় চার দশকে সেপ্টেম্বর মাসে আলিপুরে একদিনে এত বৃষ্টি হয়নি। এত বৃষ্টি সেপ্টেম্বরের কলকাতা দেখেছিল, ৭৮ এবং ৮৬ সালে। ১৯৭৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল আলিপুরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ বৃষ্টি হয়েছিল ২৬০ মিমি। আর এবার গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টি ২৫১.৪ মিমি।

 

বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কলকাতায় মৃত ৮

 

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর এসেছে সকাল থেকেই। মঙ্গলবার সকালে একবালপুরের হোসেন শাহ রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক প্রৌঢ়ের। একবালপুর থানা এলাকার হোসেন শাহ রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জীতেন্দ্র সিংহ নামে ৬০ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়ের। ভোর ৫টা নাগাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নেতাজিনগর এবং বেনিয়াপুকুরেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। গড়িয়াহাটেও এক জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। গড়ফাতেও এক সাইকেল আরোহীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। নেতাজিনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ফলের দোকান রয়েছে কলকাতার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত কুন্ডুর। অন্য দিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও দোকান খুলতে নেতাজিনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছোন তিনি। সাইকেলে চেপে সেখানে যান তিনি। বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি বাতিস্তম্ভের গায়ে সাইকেলটি হেলান দিয়ে রাখতে যান। সেই সময়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নেতাজিনগরের ওই ঘটনার প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এনএসসি বোস রোডে জল দাঁড়াবে, আমি আমার জন্ম থেকে দেখিনি। কলকাতার যা ধারণক্ষমতা, তার চেয়ে দশ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আমরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চেষ্টা করছি যাতে এই অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি পান।’ রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিদ্যুতের জন্য আট-নজন মারা গেছে। আমি সকালেও সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে কথা বলেছি। এটা আমাদের সময় নয়, ওরা বামফ্রন্টের সময় থেকে পেয়েছে। হাওড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনার অনেকগুলো অঞ্চল পড়ে। সিইএসসি তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না।’ মমতা বলেন, ‘কলকাতায় মারা গেছে আট জন, গ্রামবাংলায় মারা গেছে দু’জন। পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছি সিইএসসি-কে। মৃত্যুর বিকল্প কখনও ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।’

 

কলকাতা ও শহরতলীতে ব্যাহত ট্রেন পরিষেবা

 

সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত লাগাতার বৃষ্টিতে কলকাতার শিয়ালদহ এবং হাওড়ার স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় লোকাল ট্রেন পরিষেবা। রাতভর নাগাড়ে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা। লাইনে জল জমে থাকার কারণে চক্ররেলের আপ এবং ডাউন লাইনের পরিষেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। দুপুরের পরেও বন্ধ ছিল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন পরিষেবা। একই ভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীরাও।

 

থমকে গেল লাইফ লাইন কলকাতা মেট্রো

 

কলকাতার মেট্রো পরিষেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। পাক সুইট থেকে শুরু করে কলকাতা মেট্রো ব্লু লাইনের বেশ কয়েকটি স্টেশনে জল ঢুকে যাওয়ার ফলে বন্ধ করে দিতে হয় কলকাতা মেট্রোর অধিকাংশ স্টেশনে মেট্রো পরিষেবা। মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু ছিল ভাঙা পথে দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান স্টেশন পর্যন্ত। মহানায়ক উত্তম কুমার ও রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনের মাঝে লাইনে জল জমায় আপাতত শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে ময়দান পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ ছিল।

 

পুরসভার কন্ট্রোলরুমে মেয়র ফিরহাদ

 

বিগত চার দশকের মধ্যে কলকাতায় নজিরবিহীন বৃষ্টিতে যেভাবে জল জমা এবং পুজো মন্ডপ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে তার জেরে ভোর রাত থেকে কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোলরুমে সম্পূর্ণ পরিস্থিতির উপরে নজরদারি করতে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে। মঙ্গলবার কলকাতার জলমগ্ন পরিস্থিতির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, ‘এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি। আমি এই শহরেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। খবরের কাগজে পড়েছিলাম উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে হয়নি। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল-অস্বাভাবিক। বৃষ্টি ও নিম্নচাপে সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে। নদীতে টগমগ করছে জল। খাল উপচে পড়ছে। ফলে পুরসভা থেকে ড্রেনেজ সিস্টেমে জল ফেলতে গেলেও তা ব্যাক ফ্লো হয়ে আবার শহরে ঢুকে পড়ছে। জল খালে না গেলে শহর থেকে জল নামবে কী করে! এই রকম জল আমি ছোটবেলা থেকে কোনওদিন দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যা হয়েছিল, তখন এরকম জল দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। এবার আদিগঙ্গাও পুরো ভরে গিয়েছে।’

মেয়র জানান, রাস্তায় বসবাসকারী গরিব মানুষদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকে খাবারও দেওয়া হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এটা স্পষ্ট প্রকৃতির কাছে অসহায় পুরসভা। বৃষ্টি না কমলে কলকাতার দুর্ভোগ কমবে না।

 

আজকের খবর