শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
লন্ডন সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুবাই হয়ে লন্ডনে যাবেন তিনি। সেখানে নাকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অথচ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের থেকে কোনও আমন্ত্রণই জানানো হয়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে! কলকাতার এক আরটিআই কর্মীর করা ইমেলের উত্তরে এমনটাই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সিপিআইএম-র মুখপত্র গণশক্তির প্রতিবেদনে দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাখা নিয়ে কোনও তথ্যই নেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
আগেই জানা গিয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কেলগ কলেজের ওয়েবসাইটে মমতা ব্যানার্জির একটি আলোচনায় উপস্থিত থাকার উল্লেখ রয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ২৭ মার্চ কেলগ কলেজের সভাপতি জোনাথন মিচি এবং কোবরা বিয়ারের মালিক করণ বিলিমোরিয়ার সঙ্গে ‘সমাজ উন্নয়ন: নারী ও শিশু ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকাশ্য আলোচনা সভায় অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
এরপরেই এই বিষয়টি নিয়ে আসরে নেমে পড়েছে সিপিএম এবং বিজেপি। সুজন চক্রবর্তী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মমতার বক্তব্য রাখা নিয়ে কোনও তথ্যই নেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। কলকাতার সমাজকর্মী তথা আরটিআই (তথ্যের অধিকার) কর্মী বিশ্বনাথ গোস্বামী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি ইমেল করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার জবাব দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসের প্রধান এলিজাবেথ ব্রটরাইট জানিয়েছেন, “অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের কোনও ইভেন্ট সম্পর্কে অবগত নয়। মমতা ব্যানার্জির ভাষণ নিয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।”
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ মার্চ আলোচনাসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়ার খবরে কটাক্ষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “এটা ততটাই আসল খবর, যতটা ইস্ট জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ওঁর পিএইচডি ডিগ্রি। সত্যিটা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখবেন কেলগ কলেজে। এই কলেজ হল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত আরও ৩৫টি কলেজের মধ্যে একটি। ২০২৩-এ বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কেলগ কলেজের প্রেসিডেন্ট। বলুন তো, কলকাতার সিটি কলেজে কেউ অনুষ্ঠানে অংশ নিলে, সেটা কি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান হবে? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত কলেজের সংখ্যা তো দেড়শ। কোনও একটি কলেজের অনুষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বলা, লোককে বোকা বানানোর পিআর কৌশল।
অন্যদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের জবাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলীয় মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সিপিআইএম সমানে প্রচার করে যাচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি লন্ডনে অক্সফোর্ড থেকে আমন্ত্রনই জানানো হয় নি, এমনকি গণশক্তি এই নিয়ে খবরও করে ফেলেছে, সিপিএমের সমর্থক বিশ্বনাথ গোস্বামী নামক একজন আরটিআই কর্মীর চিঠি উল্লেখ করে। তা এতকিছুর পরে আমার সাদা মনে দুইটা সহজ প্রশ্ন আছে!
১) অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কবে থেকে এদেশের আরটিআই অর্থাৎ তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় এলো? সিপিএমের পার্টি প্লেনামে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে কিনা জানা নেই।
২) আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সিপিএমের সমর্থক বিশ্বনাথ গোস্বামীর এই চিঠির প্রেক্ষিতে লেখা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের অফিস থেকে পাঠানো জবাবি চিঠিতে পরিষ্কার লেখা আছে, তাদের কাছে যেহেতু সব বিভাগের আলাদা আলাদা তথ্য একত্রিত ভাবে (কেন্দ্রীয়ভাবে) নেই, তাই কোন বিভাগের পক্ষ থেকে আমন্ত্রন করা হয়েছে সেটা তারা এই মুহুর্তে জানাতে পারছেন না। এর মানে কি আদৌ দাঁড়ায় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রন জানানো হয়নি বলে তারা জানিয়েছেন??
মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ স্লোগান দিয়ে সিপিএমের সরকার প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি উঠিয়ে দিয়েছিল বলে সিপিএম ক্যাডাররা ইংরেজি নাই জানতে পারেন। কিন্তু রাজ্যের সবাই অশিক্ষিত, কিংবা ইংরেজি বুঝতে পারবে না, এরকম ভাবে কেন আজও সিপিআইএম!! অবশ্য মানুষকে এইরকম ভাবে বলেই, আজ পার্টিটা মহাশূন্যে বিলীন হয়ে গেছে তাই।”