সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
শহরের অন্যতম জনপ্রিয় দুর্গোৎসব হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব এ বছর পা দিল ৮৩-এ। ১৯৪২ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর দূরদর্শী ভাবনায় শুরু হওয়া এই পুজো আজও বহন করছে অন্তর্ভুক্তি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা। পদ্মপুকুর থেকে শুরু করে হাজরা পার্কে স্থায়ী আসন পাওয়া—এই যাত্রাপথে উৎসবের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে মানুষের অংশগ্রহণও।
২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব নামে পরিচিত এই পুজো শুধু দেবী দর্শনের স্থান নয়, বরং সামাজিক বার্তা এবং শিল্পকলার এক অনন্য মঞ্চ।
এবারের থিম – “দৃষ্টিকোণ”
২০২৫ সালে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ “দৃষ্টিকোণ” থিম। শিল্পী বিমান সাহার কল্পনায় এই বছর রঙকে শুধুমাত্র দৃশ্যমান সৌন্দর্য নয়, বরং এক গভীর আত্মপ্রকাশের ভাষা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী সায়ন দেব চ্যাটার্জী সংবাদমাধ্যমকে বলেন –
“রঙ কেবল পৃথিবীর অলংকার নয়, এটি এর হৃদস্পন্দন। ভালোবাসা, প্রতিবাদ, আশা কিংবা সাহস – প্রতিটি আবেগই রঙের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আমরা চাই মানুষ রঙের ভেতর দিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে পাক।”

রঙের উৎসবের মাধ্যমে শিল্পের প্রকাশ
প্যান্ডেল থেকে প্রতিমা—প্রতিটি স্তরে রঙের বহুমাত্রিকতা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। শৈল্পিক নকশা, আলোকসজ্জা এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে এই দুর্গোৎসব হয়ে উঠবে শিল্প ও আবেগের মিলনক্ষেত্র।
দর্শনার্থীরা শুধুমাত্র দর্শক নন, বরং অভিজ্ঞতার অংশীদার। প্রতিটি রঙ তাদের চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে।
থিম উন্মোচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, শিল্পী বিমান সাহা এবং অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। সকলের মতে, হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব কেবল উৎসব নয়, এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রতীক।
দুর্গোৎসব মানেই ঐক্য ও সম্প্রীতি
দুর্গোৎসব বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব প্রতি বছরই সমাজের সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে। পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের নিয়ে এই মেলবন্ধন শুধু ভক্তির নয়, বরং আনন্দ, সৌন্দর্য ও শিল্পচর্চারও প্রতীক।
Hazra Park Durga Puja 2025 কেবল একটি পূজা নয়, এটি রঙ, আবেগ এবং দৃষ্টিভঙ্গির উৎসব। ‘দৃষ্টিকোণ’ থিমের মাধ্যমে এই দুর্গোৎসব প্রত্যেককে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে রঙের ভেতর দিয়ে নতুন গল্প খুঁজে বের করতে।