শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন যে, আসন্ন নির্বাচনগুলিতে কলকাতা পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে ভোটের কাজ থেকে দূরে রাখতে হবে। এই মর্মে তিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্যের পুলিশ তৃণমূল সরকারের ‘দলদাস’ হিসেবে কাজ করছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাদের পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি দিঘার পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সেই অনুষ্ঠানে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁকে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য পুলিশ সদস্যরা প্রচারও করেছেন।
বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার দিন থেকে তা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের কোনো সদস্যকে ভোট এবং ভোট সংক্রান্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো কাজে রাখা চলবে না। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যের পুলিশ এমন আচরণ করে না। তাঁর কথায়, ‘এ রাজ্যের পুলিশ নিজেদের মর্যাদা, আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে তৃণমূল সরকারের হয়ে কাজ করছে।’ এই ‘দলদাস’ পুলিশকে ভোটের ডিউটিতে রাখা যাবে না-এই দাবিতেই তিনি অনড়।
সম্প্রতি দিঘায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে মঞ্চ থেকে কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক প্রকাশ্যে জানান, তাঁরা আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। এদিন সেই ভিডিও সামনে এনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের এভাবে প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্য করা নজিরবিহীন। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।’ মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ওই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অভিযোগ করেন, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ‘নিরপেক্ষতার পথ থেকে সরে গিয়েছে’।
বিরোধী দলনেতা সরাসরি অভিযোগ করেন, ‘দলদাস পুলিশদের ভোটের কাজে রাখা যাবে না। পুলিশ আধিকারিকরা প্রকাশ্যে বলছেন তাঁরা মমতাকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চান— এটা কি ভোটের আগে প্রচার নয়? পুলিশের নিরপেক্ষতা সমুদ্রে বিসর্জন দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। দেশের কোথাও এমন ঘটনা ঘটে না।’
রাজ্য পুলিশের একাংশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে এক জন সাব ইন্সপেক্টর, একজন ইন্সপেক্টর, আরেক জন এসইপি পদমর্যাদার পুলিশ কর্তার বক্তৃতার ক্লিপিংস সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সদস্যদের সরিয়ে নতুন নির্বাচন করতে হবে। ভোট একটি গোপন মত, কিন্তু সরকারি প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজনৈতিক সমর্থন ঘোষণা কীভাবে করা হয়?’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি গাইড লাইনও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। কলকাতা পুলিশের ৩২৪ জন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ৫৯১ জন, মোট ৯১৫ জনের কথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, এই সমস্ত পুলিশকর্তাদের মধ্যে এমনও পুলিশ রয়েছেন, যাঁরা ইউনিফর্ম পরেন না। নির্বাচন হতে এখনও মাস ছয়েক দেরি রয়েছে। তবুও এত তাড়াতাড়ি কেন কমিশনকে চিঠি! সে প্রশ্নেরও উত্তর নিজেই দেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও সদস্যকে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রত্যাহার হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ও নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে রাখা যাবে না। আমি তিন মাস আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানালাম। তারা কী ব্যবস্থা নেবেন, সেটা তাঁদের ফুল বেঞ্চের ব্যাপার। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করবেন কিনা, সে ব্যাপারে ভাববেন। পুলিশের কিছু কাজ রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ নয়। অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ আনবেন কিনা, তারা যাতে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করেন, তার জন্য জানানো। ফেব্রুয়ারি মাসে এমসিসি চালু হওয়ার পর এই বিষয়টা জানানো উচিত। কিন্তু তারা যাতে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে পারে, তার জন্যই আগে জানানো।’